সৌদি সহযোগিতায় তৈরি হতে যাচ্ছে পবিত্র আল কুদ্‌স শহরের বিশাল তথ্যভাণ্ডার

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নাহিয়ান হাসান মাহির


সৌদি আরবের কিং আবদুল আজিজ পাবলিক লাইব্রেরি (কেএপিএল) এবং ইউএন ফিলিস্তিনের শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডাব্লিউএ পবিত্র আল কুদ্‌স  শহর বা জেরুসালেম-এর ইতিহাস নিয়ে একটি ডাটাবেস তৈরির জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।

সৌদি সংবাদপত্র আরব নিউজ জানায়, কেএপিএল এবং ইউএনআরডাব্লুএ আরব ইউনিয়ন ক্যাটালগের ফিলিস্তিনি গ্রন্থাগারগুলির ডাটাবেস গঠনের জন্য আল কুদ্‌স শহরের শরিয়াহ আদালতের ৮২০ টি রেকর্ড সংগ্রহ করেছে, যার প্রত্যেকটিতে কম্পক্ষে ১৫০ থেকে ২৫০ পৃষ্ঠা রয়েছে।

১৫২৮ সন থেকে আল কুদ্‌স বা জেরুসালেমের ইতিহাস ভিত্তিক দলিলদস্তাবেজ বিভিন্ন বই,মানচিত্র এবং প্রচ্ছদ আকারে সংরক্ষিত রয়েছে, যেগুলোতে ২,৫০,০০০ এরও বেশি পৃষ্ঠার তথ্য রয়েছে।এখন সেগুলো ইউএনআরডাব্লিউর লাইব্রেরির অনলাইন নেটওয়ার্কে উপলব্ধ।

প্রত্নতাত্ত্বিকতাকে নথিভুক্ত করনে আগ্রহী এবং এর পক্ষে সমর্থনকারী মাজেদ আল আহদাল আরব নিউজকে বলেছেন,দলিলদস্তাবেজ বা ইতিহাস নথিভুক্তকরণ নীতিগতভাবে মানবতা এবং সভ্যতার বহিঃপ্রকাশ।শুধু তাই নই, এটি মানুষের এমন এক অবস্থা যা ব্যক্তির জীবন এবং অমরত্বের প্রতি তার প্রবল আকাঙ্খাকে প্রকাশ করে।

ইউএনআরডাব্লিউএ ৫ মিলিয়নেরও বেশি ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা এবং খাদ্য নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে।

কেএপিএল ফিলিস্তিন এবং আরব ইতিহাস নিয়ে কাজ করছে এবং ইতিমধ্যে এবিষয়ে একটি বৃহদাকার ডাটাবেস তৈরি করেছে। এছাড়াও তারা ফিলিস্তিনের নথি, ফোটোগ্রাফ এবং বইয়ের একটি বিরল সংগ্রহ তৈরি করেছে যা সত্যিই খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইহুদিবাদী সন্ত্রাসী বাহিনী পূর্ব জেরুসালেম দখল করে নেয়, যেখানে মূল আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণটি অবস্থিত। তারা ১৯৮০ সালে পুরো শহরটিকে এমন একটি পদক্ষেপে নিজেদের দখলে নেয় যা কখনোই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়দের মাঝে স্বীকৃত ছিল না।

আন্তর্জাতিক আইনের চোখে পূর্ব জেরুসালেম সহ পুরো পশ্চিম তীর হল একটি দখলকৃত অঞ্চল। সেখানে ইহুদিদের স্থানান্তর ও বসতি স্থাপনকে তারা অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করে।

সূত্র : আনাদোলু