বিস্ফোরণের ঘটনায় সরকারকে দায়ি করে লেবাননে বিক্ষোভ, ব্যাপক সংঘর্ষ

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষুব্ধ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে।

বৃহস্পতিবার বড় ধরনের সরকার বিরোধী বিক্ষোভে দেখা যায় তাদের।

বিবিসি জানায়, সরকারের অবহেলার কারণে বৈরুতের বন্দরে ভয়াবহ এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ।

মঙ্গলবার জোড়া বিস্ফোরণে শহরটির বিশাল এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। পারমাণবিক বোমার মতো শক্তিশালী এ বিস্ফোরণে অন্তত ১৩৫ জন নিহত হন, আহত ৫ হাজার। কয়েক ডজন মানুষ এখনো নিখোঁজ।

ঘরবাড়ি হারিয়ে প্রায় ৩ লাখ মানুষ রাস্তায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। খাদ্য ও পানির সংকটে পরিস্থিতি আরও তীব্র হচ্ছে।

২০১৩ সাল থেকে বন্দরের একটি গুদামে মজুত রাখা ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটে বলে সরকার দাবি করে।

এত বছর ধরে কীভাবে এত বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য গুদামটিতে পড়ে ছিল, এমন প্রশ্নে মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি করে।

বিক্ষুব্ধ মানুষ রাস্তায় নেমে এসে সরকার বিরোধী স্লোগান দেয়। তাদের অভিযোগ, সরকারের অবহেলার কারণে এতগুলো মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।

বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীরা দেশটির পার্লামেন্ট ঘেরাও করতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পার্লামেন্টের কাছে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।

বৈরুতের বিভিন্ন এলাকায় এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায় মানুষকে।

এদিকে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, বিস্ফোরণের এই ঘটনার তদন্তে ১৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুই জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি পদত্যাগ করেছেন।

বুধবার মারওয়ান হামাদেহ নামে একজন এমপি দেশটির পার্লামেন্ট থেকে পদত্যাগ করেন। পরদিন তাকে অনুসরণ করেন জর্দানে লেবাননের রাষ্ট্রদূত ট্রাসি সামাউন। এমন বিপর্যয়ের ফলে নেতৃত্বের পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে তাদের দাবি।

About |

Check Also

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্বেও রাশিয়া থেকে এস-৪০০ কিনবে তুরস্ক

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্বেও রাশিয়া থেকে এস-৪০০ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রয় করা থেকে ফিরবে না …