আমেরিকায় ট্রাম্পের ‘মুসলিম নিষিদ্ধ’ আইন বাতিল করে বিল পাশ

মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রের নাগরিকদের আমেরিকায় নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ২৩৩-১৮৩ ভোটে ২২ জুলাই একটি বিল পাশ হয়েছে। ‘নো ব্যান এ্যাক্ট’ নামক এই বিলের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশীদের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে পরিচিত কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং।

সকল ডেমক্র্যাটের ভোটে মুসলিম নিষিদ্ধ আইনের বিরুদ্ধে এই বিল পাশের পর এক বিবৃতিতে কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং বলেছেন, মুসলমানদের নিষিদ্ধ করে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ জারির পর থেকেই আমি আন্দোলনকারিদের পক্ষে রয়েছি। আমি কংগ্রেসে দাবি উঠিয়েছিলাম ঐ বিধি কার্যকর করার জন্যে বরাদ্দকৃত অর্থ বাতিলের জন্যে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘নো ব্যান এ্যাক্ট’ পাশ হওয়ায় আমি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, মুসলমানেরা হচ্ছে কঠোর পরিশ্রমী মানুষ, বিশেষ করে কুইন্সে বসবাসরতরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে অপরিসীম ভূমিকা পালন করছেন। এ অবস্থায় আমাদের সকলকে ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কারণ, এমন ধর্মীয় বিদ্বেষ মনোভাব কোনভাবেই সুন্দর মনের প্রকাশ ঘটায় না। এমন নিষ্ঠুরতাকে আমেরিকার সংবিধানও প্রশ্রয় দেয় না।

এদিকে নিউইয়র্কস্থ ‘মুসলিম বার এসোসিয়েশন অব নিউইয়র্ক’ গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছে প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাশ হওয়ায়। একইসাথে তারা গ্রেস মেং-কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিলটি উত্থাপনের জন্যে। ‘সাউথ এশিয়ান বার এসোসিয়েশন’ও গ্রেস মেং-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের একটি পদক্ষেপও আমেরিকার নীতি-নৈতিকতার পরিপূরক হচ্ছে না। সংবিধানে সকল ধর্ম-জাতি-গোষ্ঠি-বর্ণের মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করা থাকলেও ট্রাম্প তা মানতে নারাজ। অভিবাসী সমাজকে নির্মূলের অভিপ্রায়ে ট্রাম্পের সকল স্বৈরাচারি আচরণকে রুখে দিতে গ্রেস মেং-এর মত জনপ্রতিনিধিগণের পক্ষে থাকার সংকল্প ব্যক্ত করেছে এই সংগঠন।


প্রসঙ্গত: দায়িত্ব গ্রহণের পরই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘মুসলমানদের নিষিদ্ধ’ বিধি জারি করেছিলেন। এতে লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেন, চাদ, নর্থ কোরিয়া এবং ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের নিষিদ্ধের নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়। সেই নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিবাদের পাশাপাশি আদালতে যায় মানবাধিকার সংস্থাগুলো। এক পর্যায়ে ইউএস সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ঐ নির্বাহী আদেশকে অকার্যকর করেছে। এতদসত্বেও ট্রাম্প পুনরায় হুমকি দিয়েছেন আরেকটি আদেশ জারির। এহেন অ-আমেরিকান মনোভাবের পরিপ্রেক্ষিতে ডেমক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের এই বিল পাশ করলেন।