রিমান্ডে থেকেই লোভনীয় প্রস্তাব দিচ্ছে বহুরূপী সাহেদ

প্রতারণার জাদুকর সাহেদের দাপটে তটস্থ থাকতেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তদবির না শুনলে অনেক কর্মকর্তাকে উল্টো ফাঁসিয়েছেন তিনি। রিমান্ডে থেকেও অব্যাহত রয়েছে তার সুনিপুণ প্রতারণার চেষ্টা। তদন্তসংশ্লিষ্ট অনেককে লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে বসেছেন বহুরূপী এই ভয়ঙ্কর প্রতারক।

অন্যদিকে, করোনা টেস্ট না করে সার্টিফিকেট দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাহেদের অন্যতম সহযোগী তরিকুল ইসলাম ওরফে তারেক শিবলী দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদের আদালতে এ জবানবন্দি দেন। এ ছাড়া অস্ত্র মামলায় সাহেদকে সাত দিনের রিমান্ডে চাইবে র‌্যাব। এর আগেই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সাতক্ষীরা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব সদর দফতর।

সূত্রে জানা গেছে, রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা পরিচয়ে ফোন দিয়ে অবৈধ সুবিধা চাইতেন দেশের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্বে থাকা ওইসব পুলিশসহ বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তার কাছে। তবে তার তদবির না শুনলেই অনেক কর্মকর্তার ক্ষতিও করেছেন সাহেদ।

ওপরমহলের কাছে উল্টো ওইসব কর্মকর্তার বদনাম করে তাদের বিভাগীয় শাস্তি কিংবা দুর্গম অঞ্চলে বদলি করিয়েছেন। ওই যাতনা বয়ে বেড়াচ্ছেন এখনো অনেক কর্মকর্তা। তদন্তসংশ্লিষ্টদের কাছে এরই মধ্যে অনেক ভুক্তভোগী কর্মকর্তা তাদের অভিযোগ জানিয়েছেন।

সূত্র আরও বলছেন, দফায় দফায় সাহেদকে জিজ্ঞসাবাদে ব্যস্ত রাখলেও এখনো তার অনেক তথ্যের বিষয়ে বিভ্রান্তিতে রয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যাÑ এ নিয়েও রয়েছেন দ্বিধায়। অন্যদিকে, সাহেদের কাছে পাওনাদারদের কোনো সদুত্তর দিতেও পারছেন না তদন্ত তদারকি কর্মকর্তারা। আদালতের বিচারিক ব্যবস্থা শেষ করে আদৌ তারা পাওনা টাকা ফিরে পাবেন কিনা, এমন হতাশায় দিনাতিপাত করছেন অনেক ভুক্তভোগী।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা একটি জাতীয় দৈনিককে বলেন, সাহেদ ভারত থেকে পড়াশোনা করেছেন এমন দাবি করলেও আমার তা বিশ্বাস হয় না। এইচএসসি কোথা থেকে পাস করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, ইংলিশ মিডিয়াম থেকে। তবে তার অনেক ইংরেজি উচ্চারণই ঠিকমতো হয় না। তিনি পুরোপুরি এক ভ-। আমার কয়েকজন কনস্টেবলকেও তিনি নানা অফার দিয়ে বসেছিলেন।