আল জাজিরাকে দেওয়া আয়াসোফিয়ার খতিব শাইখ মুশতাওয়ারের বিশেষ সাক্ষাৎকার

গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) পবিত্র জুম’আর নামাজের মধ্য দিয়ে ৮৬ বছর পর পুনরায় মসজিদ হিসেবে যাত্রা শুরু করলো তুরস্কের ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক আয়াসোফিয়া গ্র্যান্ড মসজিদ। জুম’আর নামাজে উপস্থিত ছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। জুম’আর আগে মসজিদটিতে বিশ্ববিখ্যাত ক্বারীগণ পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করে মুসল্লিদের বিমোহিত করেন পৃথিবীর স্মরণীয় ওই দিনটিতে। আর এই ক্বারীদের মধ্য থেকেই একজনকে মনোনিত করেন আয়াসোফিয়া গ্রান্ড মসজিদের খতিব হিসেবে। মনোনিত এই সৌভাগ্যবান খতিব- শাইখ আল হাফিজ ফুরুহ মুশতাওয়ার।

আয়াসোফিয়া জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব নিযুক্ত হওয়ার পর তাঁর একটি সাক্ষাৎকার নেয় সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। ইনসাফের পাঠকদের জন্যআরবী সাক্ষাৎকারটির অনুবাদ করেছেন নাহিয়ান হাসান

আল জাজিরা: আয়াসোফিয়াকে জাদুঘর থেকে মসজিদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে আপনার অনুভূতি কি?

শাইখ মুশতাওয়ার: আয়াসোফিয়া এতদিন অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল। আলহামদু লিল্লাহ,এখন তা তার আসল রূপে ফিরে এসেছে।

আল জাজিরা: যখন আপনি জানতে পারলেন যে, আপনিই বর্তমান আয়াসোফিয়া জামে মসজিদের প্রধান ইমাম, তখন আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?

শাইখ মুশতাওয়ার: আমাকেই আয়াসোফিয়ার ইমাম নিযুক্ত করার সংবাদ শুনে আমি হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও সম্মানবোধ করছি আমাকে আয়াসোফিয়ার ইমাম নিযুক্ত করায়। কারণ, হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের যে সুসংবাদ দিয়েছিলেন সেই বিজয়ের স্মৃতিচিহ্ন হল এই এই আয়াসোফিয়া। সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহ এবং উস্তাদ শামসুদ্দিন রাহমাতুল্লাহি আলাইহী এর মিম্বারে আমার জায়গায় যদি আপনি হতেন তবে আপনার পক্ষেও পুরো অনুভূতি প্রকাশ করা সম্ভব হতো না। আমিও পুরো অনুভূতি প্রকাশ করতে পারছি না। এই ব্যাপারে আমি শুধুমাত্র আলহামদু লিল্লাহ-ই বলবো। আর মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে এই ফরিয়াদ করি তিনি যেনো আমাকে এর উপযুক্ত করে তুলেন।

আল জাজিরা: কুরআনের সাথে আপনার সখ্যতা নিয়ে যদি কিছু বলতেন চান।

শাইখ মুশতাওয়ার: আমি ছোটবেলা থেকেই কুরআনের প্রতি আসক্ত ছিলাম। আমাদের গ্রামের এক মসজিদে সর্বপ্রথম কুরআন পাঠ করা শিখি। সেখানে কুরআন পাঠ শিখার পর হিফজ করার প্রতি মনোযোগী হই এবং অতিদ্রুতই তার হিফজ সম্পাদন করতে সক্ষম হই। যখন আমি হিফজ সম্পন্ন করি, আমার বয়স মাত্র ১১ বছর।

আল জাজিরা: আল জাজিরার মাধ্যমে মুসলিম এবং আরব বিশ্বের প্রতি আপনি কী বার্তা দিতে চান?

শাইখ মুশতাওয়ার: আয়াসোফিয়া মসজিদে রূপান্তর নিঃসন্দেহে বিশ্বের মুসলিম ভাইদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। আমি আশাবাদী- আল্লাহ পাক এটিকে পুরো আরব বিশ্বের ঐক্যের জন্য মাধ্যম বানাবেন এবং এটি হবে বরকতময় পুণ্যভূমি আল কুদস(জেরুসালেম) ও পবিত্র আল আকসা মসজিদের মুক্তির পদযাত্রার প্রারম্ভিকা।

আল জাজিরা: যারা আয়াসোফিয়াকে জাদুঘর থেকে মসজিদে রূপান্তরের বিরোধিতা করছে তাদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলতে চান?

শাইখ মুশতাওয়ার: আমি এই ব্যাপারে বিরোধীদের অনুরোধ করব তারা যেনো আয়াসোফিয়ার বিষয়ে সম্মান প্রদর্শন করে। কারণ, তুরস্কে আমাদের পুর্বপুরুষরা এমনকি ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী তাদের পুর্বপুরুষেরাও সর্বদা ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও তাদের উপাসনা স্থানগুলোর প্রতি যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করতেন। তারা উপাসনা স্থানগুলোর সংস্কার এবং চাহিদা পূরণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতেন।

পুরো বিশ্বের খেয়াল করা উচিত, আজ মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি দেশেই অমুসলিমরা তাদের রীতিনীতি পালন করতে পারে এবং কোনো চাপ বা সমস্যা ছাড়াই পূর্ণ নিরাপত্তার সাথে তাদের উপাসনা কার্য সম্পাদন করতে পারে।

সমালোচকদের এটাও লক্ষ্য রাখা উচিত, আয়াসোফিয়া আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটি আমাদের জন্য সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহের আমানত। আলহামদু লিল্লাহ, আয়াসোফিয়াকে তার আসল রূপে ফিরিয়ে দিয়ে আমরা আমাদের আমানতদারীতা রক্ষা করতে পেরেছি। আমি মহান আল্লাহ পাকের দরবারে আয়াসোফিয়া, মুসলিম বিশ্ব এবং পুরো মানবজাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যত কামনা করছি।

সূত্র: আল জাজিরা