কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের আলোচনা; ভারতের চোখ কপালে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান টেলিফোনে কথা বলার পর ইসলামাবাদ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয় যে খান কাশ্মীর নিয়ে তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। লাদাখে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে চীনের সঙ্গে সংঘাতের পর এই বিবৃতি ভারতের প্রতিবেশী দেশটিতে দৃষ্টিভঙ্গীর বদলের গুঞ্জন সৃষ্টি করেছে।

গত কয়েকমাস ধরে নেপালের সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক কণ্টকাকীর্ণ হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে ঢাকার সঙ্গে ইসলামাবাদের আলাপচারিতার সফল সূচনা বাংলাদেশের এত দিনের ভারত-পন্থী অবস্থান নস্যাৎ করার মতো সঙ্কটজনক অবস্থায় নিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশে এরই মধ্যে চীনের অবস্থান জোড়ালো হয়ে উঠেছে বলে ভারতে উদ্বেগ রয়েছে।

সরকারের সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে কাশ্মীর প্রসঙ্গ উল্লেখই করা হয়নি। তাতে বলা হয় যে দুই নেতা করোনাভাইরাস সঙ্কট ও বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে পাকিস্তানে বিবৃতিতে বলা হয় প্রধানমন্ত্রী খান কাশ্মীর বিষয়ে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গী শেয়ার করেন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের উপর জোর দেন।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে যে এতে উদ্বেগের কিছু নেই। শুক্রবার (২৪ জুলাই) নয়া দিল্লির প্রেসমিটে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীভাস্তব বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং ঐতিহাসিক। কাশ্মীরের ব্যাপারে তাদের অটল অবস্থানকে আমরা প্রশংসা করি। তারা সবসময় একে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় মনে করে আসছে।

কিন্তু এই কথায় অনেক ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ সন্তুষ্ট হননি। বাংলাদেশের সাথে ইমরান খানের ফোনালাপ নিয়ে তাদের মাথা ব্যাথার অন্ত নেই।

কলকাতাভিত্তিক ভারতীয় বুদ্ধিজীবী সুবীর ভৌমিক বলেন, ‘ভারতের অবশ্যই উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে যেভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাতে মনোভাবের আকস্মিক পরিবর্তন, বিশেষ করে এমন একটি সময়ে ভারত যখন লাদাখে চীনর সঙ্গে সমস্যা জড়িয়ে আছে, তখন পর্দার আড়ালে কিছু কূটনৈতিক রণকৌশলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।’


সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর