শীঘ্রই লুই কানের নকশা অনুযায়ী সংসদ ও আশপাশের এলাকা সংস্কার হবে

মার্কিন স্থপতি লুই আই কানের করা নকশা অনুযায়ী জাতীয় সংসদ ও আশপাশের এলাকার সংস্কার করা হবে বলে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী জানিয়েছেন।

বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় অনলাইনে যোগ দিয়ে স্পিকার এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সংসদকে লুই আই কানের নকশা অনুযায়ী সাজানোর বিষয়টি প্রায় চুড়ান্ত পর্যায়ে। আজকের সভার ভিত্তিতে ঈদের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে আলোচনা করে তার দিক নির্দেশনা অনুযায়ী সংসদের সংস্কার কাজ সম্পন্ন হবে।

সংসদের শপথ কক্ষে ‘জাতীয় সংসদ ভবনে স্থাপত্য সংক্রান্ত বিষয়াদি পর্যালোচনা’ শীর্ষক ওই সভায় স্পিকার ভার্চুয়ালি যোগ দেন।

সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় স্পিকার বলেন, “জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলী আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দিত। সংসদ ভবনের সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কারের ক্ষেত্রে সে কারণে অধিক যত্নশীল হতে হবে।”

লুই আই কানের নকশা অনুযায়ী সংসদের সংস্কারের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করায় স্পিকার সভায় প্রধান হুইপকে ধন্যবাদ জানান।

সংসদের উত্তর প্লাজায় বিভিন্ন উইংয়ের অফিস, লবির আকার, কর্মকর্তাদের অফিসে ঢোকার জন্য অটোমেটিক সেন্সর ডোর, অফিসারদের আগমন ও প্রস্থানের রাস্তার সাথে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও প্রস্থানের রাস্তার নিরাপত্তা, শীততাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়।

সভায় প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, সংসদ সচিব জাফর আহমেদ খান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম, নির্বাহী আর্কিটেক্ট সাঈকা বিনতে আলম বক্তব্য রাখেন।

২০১৪ সালে লুই কানের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সংসদ ভবনের মূল নকশা আনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাফেজখানা থেকে লুই আই কানের তৈরি করা ৮৫৩টি নকশা ঢাকায় আনা হয়। পরে তার এক কপি স্থাপত্য অধিদপ্তরকে দেওয়া হয়।

লুই কানের নকশা অমান্য করে বিভিন্ন সময় সংসদের ভেতরে ও বাইরে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সংসদ এলাকায় সাতটি কবরও রয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান ও আতাউর রহমান খান, সাবেক মন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়া, মুসলিম লীগ নেতা খান এ সবুর, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদ এবং পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার তমিজউদ্দীন খানের কবর রয়েছে সেখানে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী শাহ আজিজ ও খান এ সবুরের কবর সংসদ এলাকা থেকে সরানোর দাবি বহু দিনের। এছাড়া, সংসদ এলাকার পাশে চন্দ্রিমা উদ্যানে রয়েছে জিয়াউর রহমানের কবর।

লুই কানের নকশা ভেঙে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাড়িও নির্মাণ করা হয়েছিল বিগত চারদলীয় জোট সরকার আমলে। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তখন ভবন দুটি তৈরি হয়। এ সংক্রান্ত একটি মামলা এখনও বিচারাধীন।

সংসদের ভবনের ভেতরে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে আলো-বাতাস ঢোকার পথ বন্ধ করে কক্ষ তৈরি হয়েছে। সংসদ সচিব, বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির সভাপতিদের একান্ত সচিবসহ কর্মকর্তাদের এসব কক্ষ তৈরি হয়েছে, যা মূল নকশায় নেই। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় গণামধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে।

কয়েক বছর আগে সংসদ ভবনের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ নিয়ে সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থপতি লুই কানের করা মূল নকশা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

About |

Check Also

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়ক দিয়ে চলছে বাংলাদেশ: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে …