Breaking News

ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য কাশ্মীরে জমি দখল করা সহজ করে দিচ্ছে মোদি

 

দখলকৃত কাশ্মীরে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা কোন জমি অধিগ্রহণ করতে চাইলে এখন থেকে মোদি সরকার বা কারো কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে না। ১৯৭১ সালের যে আইন এতদিন জারি ছিলো তাতে কোন বিতর্কিত অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীকে জমি অধিগ্রহণ করতে হলে বিশেষ সনদ গ্রহণ করতে হতো। সেই আইন বাতিল করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য সেখানে জমি অধিগ্রহণ বা দখল সংক্রান্ত আইন সহজ করে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।

‘অধিগ্রহণ’ অর্থ ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন অথবা উভয়ের বিনিময়ে প্রত্যাশী ব্যক্তি বা সংস্থার জন্য কোনো স্থাবর সম্পত্তির স্বত্ব ও দখল গ্রহণ করা।

কাশ্মীর উপত্যকায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য জমি অধিগ্রহণ বা দখল এখন ‘ভূমি অধিগ্রহণ, ন্যায্য পুনর্বাসন ও স্বচ্ছ অধিগ্রহণ পুনর্বাসন আইন, ২০১৩-র আওতাভুক্ত করা হয়েছে।

গত ২৪ জুলাই শুক্রবার কাশ্মীরে ভারতীয় রাজস্ব দফতরের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, সেনা, বিএসএফ, সিআরপিএফ বা সমতুল কোনও সংস্থার জন্য জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি এবার ২০১৩ সালের জমি অধিগ্রহণ ও ন্যায্য পুনর্বাসন আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হল। ১৯৭১ সালের জমি অধিগ্রহণ আইনটি প্রত্যাহার করা হল। এখন থেকে সেনা, বিএসএফ, সিআরপিএফ বা সমতুল কোনও সংস্থার জন্য জমি অধিগ্রহণে স্বরাষ্ট্র দফতরের অনুমতির প্রয়োজন পড়বে না।

কাশ্মীরের জমি দখল ও পুনর্বাসনের বিষয়টি এখন থেকে ভারতের নিযুক্ত জেলা কালেক্টররাই নিয়ন্ত্রণ করবে।

১৯৮৮ সালের বিল্ডিং অপরেশন অ্যাক্ট ও ১৯৭০ সালের ডেভালপমেন্ট অ্যাক্ট সংশোধনের অনুমোদন দিয়েছে
ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর প্রশাসন। এই পদক্ষেপের ঠিক পরের দিন ভারতীয় সেনা, বিএসএফ, সিআরপিএফ বা সমতুল কোনও সংস্থার জন্য জমি অধিগ্রহণে স্বরাষ্ট্র দফতরের অনুমতির প্রয়োজন পড়বে না বলে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

স্বায়ত্তশাসন বাতিল

গত বছর ৫ আগস্ট মুসলিম সংখ্যাগুরু কাশ্মীরকে সংবিধানে দেওয়া বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। দখলকৃত অঞ্চলটিকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ নামে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়।

পাশাপাশি মোদি সরকার পুরো কাশ্মীরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তার নামে লকডাউন, হাজার হাজার রাজনীতিক ও সাধারণ মানুষকে আটক, চলাচল ও যোগাযোগের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়।

এতদিন সেখানে বাইরের কারো বসতিস্থাপনের অনুমতি ছিলো না। চলতি বছরের মে মাসে ভারত নতুন আইন করে কাশ্মীর অঞ্চলে বাইরে থেকে আসা লোকজনকে স্থায়ী বসতি স্থাপনের সুযোগ করে দেয়। এর পর থেকে বাইরে থেকে আসা লোকজনকে গৃহসংস্থান, চাকরি ও শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছে মোদি সরকার মুসলিম শূন্য করতে কাশ্মীরে এমন কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী সাবেক রাজ্যটিতে ১২.৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে মুসলমান ছিলো ৬৮.৩১% ও হিন্দু ২৮.৪৩%। এছাড়াও গত ১৮ মে থেকে প্রায় ২৫ হাজার ভারতীয় হিন্দুকে মুসলিম সংখ্যাগুরু কাশ্মীরের নাগরিকত্ব দিয়েছে।


২৪ জুলাই কাশ্মীরের ৩৫টি স্থানে শিল্প এস্টেট তৈরির জন্য ভারতীয় প্রশাসন ১,২০৫ একর জমি অধিগ্রহণ করেছে। রাজ্যের কৃষিজমি নষ্ট করে শিল্প স্থাপনের নামে এভাবে জমি দখলকে অঞ্চলটির জন্য বিপর্যয়কর হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন জেঅ্যান্ডকে আরটিআই মুভমেন্টের চেয়ারম্যান রাজা মুজাফফর ভাট।

সূূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর ও আল জাজিরা

About |

Check Also

স্বাধীনতাকামীদের ভয়ে দল ত্যাগ করছে হিন্দুত্ববাদের সহায়ক কাশ্মীরের বিজেপি কর্মীরা

  ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | এম মাহিরজান ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী যোদ্ধারা। ভারতীয় …