ভারতকে চাপে রাখাতেই ভুটানের সাথে সীমান্ত বিবাদকে সামনে নিয়ে এলো চীন

ভুটানের পূর্বপ্রান্তের সেকটাং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অঞ্চলের উপর থেকে দাবি প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করেছে চীন। নয়াদিল্লীর বেইজিং দূতাবাসে থিম্পু এ বিষয়ে রাজনৈতিক বার্তা দেয়ার কয়েক দিনের মাথায় বেইজিংয়ের দিক থেকে এই জবাব আসে। রোববার দ্য হিন্দু এ তথ্য জানিয়েছে। চীন ও ভুটানে দুই দেশের কোন দূতাবাস নেই।

সংবাদপত্রটি বলেছে, দুই দেশের সীমান্ত বিবাদের মধ্যে ভুটানের ‘পূর্বাঞ্চলীয় সেক্টরের’ বিষয়টিকে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত করেছে চীন। ভুটানের ‘পূর্বাঞ্চলীয় সেক্টরগুলো’ অরুণাচল প্রদেশের কাছাকাছি, যে অঞ্চলকে চীন ‘দক্ষিণ তিব্বত’ বলে থাকে এবং নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে।

গত সপ্তাহে হিন্দুস্তান টাইমসে দেয়া এক বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে যে, দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত ইস্যু কখনই মীমাংসা হয়নি। “পূর্বাঞ্চলীয়, কেন্দ্রীয় ও পশ্চিম সেক্টরে দীর্ঘ দিন ধরে অমীমাংসিত ইস্যু রয়েছে”, বলেছে মন্ত্রণালয়। ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে যে, “তৃতীয় কোন পক্ষের চীন-ভুটান সীমান্ত বিবাদে নাক গলানো উচিত নয়।

জুন মাসে চীন সেকটাং অভয়ারণ্যের জন্য জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটির অর্থায়ন বন্ধের চেষ্টা করেছিল। এটাকে ‘বিতর্কিত অঞ্চল’ দাবি করে তারা ওই চেষ্টা চালায়। জাতিসংঘের এই ফ্যাসিলিটি পরিবেশ খাতের প্রকল্পগুলোতে অর্থায়ন করে থাকে।

গত মাসে এই অভয়ারণ্যের উপর চীনের দাবি নিয়ে আপত্তি জানায় ভুটান, এবং গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটি তাদের অর্থায়ন অনুমোদন করে। কাউন্সিলে ভুটানের প্রতিনিধিত্ব করেন বিশ্ব ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অপর্না সুব্রামানি। সুব্রামানি বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত আর শ্রীলংকার প্রতিনিধিত্ব করেন।

চীনের দাবির জবাবে সুব্রামানি বলেন: “চীনের দাবি ভুটান পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে। “সেকটাং ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারি ভুটানের অবিচ্ছেদ্য ও সার্বভৌম অংশ এবং দুই দেশের সীমান্ত আলোচনায় এর আগে কখনই এই অঞ্চলকে বিতর্কিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি”।

হিন্দুস্তান টাইমস তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, মূলত নয়াদিল্লীর উপর চাপ সৃষ্টি করতেই চীন ভুটানের সাথে সীমান্ত বিবাদের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে, কারণ নয়াদিল্লী হলো থিম্পুর মিত্র। সংবাদপত্রটি বলেছে, চীন একই সাথে বিষয়টি আন্তর্জাতিকীকরণ করারও চেষ্টা করবে।

ব্রুকিংস ইন্ডিয়া থিঙ্ক-ট্যাঙ্কের ফরেন পলিসি স্টাডিজের ফেলো কন্সট্যান্টিনো জাভিয়ার বলেছেন, বিষয়টি উত্থাপনের জন্য বেইজিং যে সময়টা বেছে নিয়েছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ ভারত আর চীনের মধ্যে লাদাখ অঞ্চলে লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সঙ্ঘাত চলছে। জাভিয়ার বলেন, “চীনের এইসব দাবি যদিও নতুন নয়, কিন্তু যে সময়টাতে এটা করা হলো তাকে ভুটান ও ভারতের উপর চাপ দেয়ার জন্য বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যের বিষয়টি বোঝা যাচ্ছে”।

বেইজিং এবং থিম্পুর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পথে বাধা দেয়ার জন্য চীনা মিডিয়াগুলো অনেকবারই ভারতকে দোষারোপ করে এসেছে। সাংহাইয়ের ফুডান ইউনিভার্সিটির ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সহকারী ডিন লিন মিনওয়াং বলেন, “আমি যতটুকু জানি, চীন-ভুটানের সীমান্ত ইস্যুর মীমাংসা ২০ বছর আগেই হয়ে গেছে। কিভাবে একটা চূড়ান্ত চুক্তি হবে, সে ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে একটা অভিন্ন বোঝাপড়াও রয়েছে। কিন্তু ভারতের কারণে ভুটানের জন্য বিষয়টি কঠিন হয়ে গেছে”।

সূত্র: স্ক্রল.ইন

About |

Check Also

‘রাশিয়া থেকে আর্মেনিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পাচার করছে’

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ অভিযোগ করে বলেছেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন বেসামরিক বাণিজ্যিক কার্গো বিমানে করে রাশিয়া …