ভারত-চীন উত্তেজনার মধ্যে প্রতিবেশীদের নিরব দেখছে নরেন্দ্র মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যদি ভেবে থাকেন যে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পররাষ্ট্র নীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে প্রতিবেশী দেশগুলোর মানুষের সমর্থন পাবেন তিনি, তাহলে তিনি ভুল করবেন।

চার দশকের বেশি সময় পরে সীমান্তে চীনের সাথে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা, দেশে ক্রমবর্ধমান মহামারী এবং অর্থনৈতিক মন্দার মুখে বাংলাদেশ ও নেপালের মতো ভারতের ঐতিহ্যগত আঞ্চলিক মিত্রদের নিরবতার বিষয়টি খুব বেশি করে কানে লাগছে।

মোদি দীর্ঘ সময় ধরে পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে সামরিক অবস্থানের দিক থেকে নিজেকে বলিষ্ঠ ও আগ্রাসী হিসেবে পরিচিত করে তুলেছেন। ২০১৯ সালের শুরুর দিকে, নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো বিজয়ী হওয়ার আগে, কাশ্মীরে ৪০ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পরে পাকিস্তানের মাটিতে বিমান হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

ভারতে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের কারণে চীনা পণ্য বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে এবং চাপের কারণে মোদি সরকার চীনা কোম্পানিগুলোর সাথে চুক্তি বাতিল করেছে। এ অবস্থায় মোদিকে বেইজিংয়ের সাথে শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাঝখান দিয়ে সতর্কতার সাথে হাঁটতে হবে।

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশান্সের সিনিয়র ফেলো এবং সাবেক ইউএস ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যালিসা আয়ার্স মন্তব্য করেছেন, এই ভয়াবহ সীমান্ত সঙ্ঘাত “দেখিয়ে দিয়েছে যে, মোদির ব্যক্তিগত কূটনীতির মধ্যে বড় ধরণের ঘাটতি রয়েছে”।

মোদির প্রতিবেশী প্রথম নীতি শ্রীলংকা ও ভুটানের সঙ্গে সম্পর্ক মসৃণ করতে সাহায্য করেছে। কিন্তু এর প্রকৃতি মোদির দ্বিতীয় মেয়াদে এসে ক্ষীণ হয়ে এসেছে। তার সরকার হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডার দিকে মনোযোগ দেয়ায় তাদের কিছু পুরনো মিত্র দূরে সরে গেছে এবং তাদের দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ও নিরাপত্তা অংশীদারেরা বিব্রত হয়ে পড়েছে।

৫ মে চীনের সাথে সীমান্ত সঙ্ঘাত শুরুর পর থেকে মোদি প্রতিবেশী দেশগুলোর নেতাদের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন এবং এ পর্যন্ত সমবেদনা ও উদ্বেগ জানিয়েছে শুধুমাত্র আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ইউরোপিয় ইউনিয়ন। জাতিসংঘ মহাসচিব দুই দেশের প্রতি সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

বর্তমান সীমান্ত সঙ্কটের বীজ লুকিয়ে আছে গত নভেম্বরে ভারতের গৃহিত সিদ্ধান্তের মধ্যে, যখন তারা দখতকৃত স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরের এবং লাদাখের মর্যাদা বাতিলের পর নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে। তাদের এই মানচিত্র বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করেছে এবং পাকিস্তান ও নেপালে বিক্ষোভের সূচনা করেছে।

মে মাসে চীনা সেনাদের সাথে ভারতের অচলাবস্থা যখন খারাপ দিকে যাচ্ছিল, একটি সীমান্ত রোড নির্মান নিয়ে নেপালের সাথে ভারতের সম্পর্ক তখন এমনিতেই খারাপ যাচ্ছিল। ২০১৫ সালের অর্থনৈতিক অবরোধের সময় থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে আগে থেকেই টানাপড়েন চলছিল এবং এর কারণে এমনিতেই প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির সরকার চীনের আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।

বাংলাদেশকেও দূরে ঠেলে দিয়েছেন মোদি। ভারতে মুসলিম বিরোধী নাগরিকত্ব আইন এবং এর ফলে দিল্লির শাহীনবাগসহ বিভিন্ন স্থানে হিন্দুত্ববাদী বিজেপী কর্মীদের দ্বারা নির্বিচারে মুসলমানদের ওপর হামলা ও হত্যার সূত্র ধরে বাংলাদেশ জুড়ে সৃষ্ট অসন্তোষের কারণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন তার ভারত সফর বাতিল করেন।

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর

Previous post কাশ্মীরের শ্রীনগরে ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে ৩ স্বাধীনতাকামী যোদ্ধা নিহত
Next post চাকরিচ্যুৎ করা সেই ইমামকে স্বপদে বহাল করতে লিগ্যাল নোটিস