স্বাধীনতাকামীদের ভয়ে দল ত্যাগ করছে হিন্দুত্ববাদের সহায়ক কাশ্মীরের বিজেপি কর্মীরা

 

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | এম মাহিরজান


ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী যোদ্ধারা। ভারতীয় বাহিনীর সাথে লড়ায়ের পাশাপাশি হিন্দুত্ববাদের সহায়ক শক্তি উপত্যাটির বিজেপি কর্মীদের ওপরও গেরিলা হামলা বৃদ্ধি করেছে স্বাধীনতাকামীরা। গত একমাসে হিন্দুত্ববাদের সহায়ক কাশ্মীরের ৫ বিজেপি কর্মী নিহত হয়েছে অজ্ঞাত গেরিলা হামলায়।

ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপত্যকায় এখন বিজেপি ত্যাগের হিড়িক পড়েছে। বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ৪০ জন ব্যক্তি এরইমধ্যে ইস্তফা দিয়ে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা করেছেন।

গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, কাশ্মীর উপত্যকায় গত একমাসে বিজেপি’র ৬ জনের বেশি কর্মীর উপরে গেরিলা হামলা হয়েছে। এরমধ্যে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও একজন হাসপাতালে জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে রয়েছেন।

গত ৮ জুলাই স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের গেরিলা হামলায় উত্তর কাশ্মীরের বান্দিপোরায় হিন্দুত্ববাদের সহায়ক বিজেপি’র যুব নেতা ওয়াসিম বারী, তার বাবা ও ভাই নিহত হন। ওই গেরিলা হামলার পরে দক্ষিণ কাশ্মীরে ৩ হামলার ঘটনায় বিজেপি’র ২ সরপঞ্চ নিহত ও একজন আহত হন। গত রোববার স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের গুলিতে কাশ্মীরের বাডগাম জেলায় এক সরপঞ্চ (পঞ্চায়েত প্রধান) নিহত হন।

এসব ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে বিজেপি’র সঙ্গে যুক্ত হিন্দুত্ববাদের সহায়ক যে ৪০ জন ব্যক্তি ইস্তফা দিয়ে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা করেছেন, তাদের মধ্যে দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলার বাসিন্দা ও সরপঞ্চ মুহাম্মাদ ইকবাল বলেন, তিনি মরতে চান না।

তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। যদি আমার কিছু হয়ে যায় তাহলে আমার সন্তানদের কে দেখবে? ইকবাল বলেন, আমি রাজনীতিতে এক পয়সাও উপার্জন করিনি। আমি নিজের কাজের জন্য সময় ব্যয় করতে চাই।’ সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় তিনি ওই মন্তব্য করেছেন।

কাশ্মীর উপত্যকায় ১২৬৭ পঞ্চ-সরপঞ্চ, ৬৮ ব্লক ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল(বিডিসি) রয়েছে। এরমধ্যে বেশিরভাগই বিজেপি’র। এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এসকল বিজেপির লোকেদের জেলা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিছু ব্যক্তিকে বিধায়ক হোস্টেল এবং কাশ্মীরি পণ্ডিতদের কলোনিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। শ্রীনগরের আশেপাশের জেলার কিছু সরপঞ্চকে গুলমার্গ হোটেলে রাখা হয়েছে।

বিজেপি’র সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরপঞ্চ মুহাম্মাদ আমীন বলেন, ‘আমাকে জোর করে এমন জায়গায় রাখা হয়েছে যেখানে খাওয়া বা ঘুমোনোর ব্যবস্থা নেই। আমার মেয়ের অপারেশন হওয়ার কথা ছিল, সে হাসপাতালে রয়েছে। আমাকে এক কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়ে এখানে আনা হয়েছে। এখানে এসেছি দু’দিন হয়ে গেছে। সরকার এখানে জোর করে আটকে রেখে কী দেখাতে চাচ্ছে?’

সম্প্রতি হিন্দুত্ববাদের সহায়ক কাশ্মীরের বিজেপি মহাসচিব অশোক কৌল পহেলগামের এক হোটেলে অবস্থানরত বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তার বক্তব্য, এদেরকে উপযুক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হবে। কিছুদিনের জন্য এখানে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে এদেরকে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে।

সূত্র: পার্সটুডে