বাংলাদেশের কিংবদন্তী ‘লিভিং ঈগল’ সাইফুল আজমের দাফন সম্পন্ন

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজমের জানাজা শেষে শাহীন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার (১৪ জুন) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তিনি স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও আত্মীয় স্বজনসহ বহু গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তার জানাজার নামাজ সোমবার দুপুর পৌনে দুইটায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার এর প্যারেড গ্রাউন্ডে (বিগটপ হ্যাঙ্গার) অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তাকে সম্মান জানাতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একটি ফ্লাই পাস্টের আয়োজন করে।

জানাজার নামাজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, বিবিপি, ওএসপি, এনডিইউ, পিএসসিসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিনিধি এবং সব পদবীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে শাহীন কবরস্থানে দাফন করা হয়।

পাবনা-৩ আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল আজম। তার নাম শুনে থরথর করে কাঁপত ইহুদিবাদি ইসরাইল ও ভারত।

সাইফুল আজমকে লিভিং ঈগল বলা হয়। ১৯৬৭ সালের ইরাক যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। যুদ্ধে একটি ইসরাইলি বিমান ভূপাতিত করেন এবং আরেকটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম হন।

১৯৪১ সালে পাবনা জেলার খগড়বাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই সাইফুল আজম। উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পাশ করে ১৯৫৬ সালে উচ্চতর শিক্ষার্থে পশ্চিম পাকিস্তান যান। ১৯৬০ সালে জিডি পাইলট ব্রাঞ্চের একজন পাইলট হন তিনি। ১৯৭১ সালের পূর্বে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগ দেন।

পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৬ জুন তাকে ইরাকি বিমান বাহিনীতে বদলি করা হয়। বিমানঘাঁটি আক্রমণের সময় তিনি পশ্চিম ইরাকে ছিলেন।

সাইফুল আজম তার বর্ণাঢ্য জীবনে নিজেই কিংবদন্তির ইতিহাস রচনা করেছিলেন। পৃথিবীর ২২ জন ‘লিভিং ঈগলের’ মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। তাঁর দুরন্ত নির্ভুল নিশানা কাঁপিয়ে দিয়েছিল সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী বিমান বাহিনীকেও।

সাইফুল আজম ছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র ফাইটার পাইলট যিনি চারটি দেশের বিমান বাহিনীর সৈন্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই চারটি দেশ হলো পাকিস্তান, জর্ডান, ইরাক ও বাংলাদেশ। দুটো ভিন্ন প্রতিপক্ষের বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমর জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে তার, এগুলো হলো ভারত ও ইসরাইল।

তার বিরলতম অর্জন হলো, ইতিহাসের একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে তিনটি ভিন্ন দেশ থেকে লড়াইয়ের স্বীকৃতি স্বরূপ সামরিক সম্মাননা প্রাপ্তি।

Previous post বাংলাদেশের কিংবদন্তী সাইফুল আজমের ইন্তেকালে শোকাহত ফিলিস্তিনিরা
Next post রাজধানীতে টাকার বিনিময়ে করোনার ভুয়া সনদ সরবরাহকারী চক্রের চার সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব