কুরবানীকে ব্যঙ্গ করে আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে বিএসএফ ও ভারতীয় গণমাধ্যম: বিজিবি

ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক সংবাদে বলা হয়েছে, চলতি জুলাই মাসের শেষে কুরবানীর ঈদ উপলক্ষে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে গরু চোরাচালান বেড়েছে। অর্থাৎ গরু পাচারের পেছনে ধর্মীয় কারণের উপস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিএসএফ-এর বিবৃতিতে একই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রাণিগুলোকে ভারতে পরম যত্নের সঙ্গে লালন-পালন করা হয়, কিন্তু কুরবানী ঈদের নামে উৎসর্গ করে বাংলাদেশে পশুগুলোকে জবাই করে নির্যাতন করা হয়।

এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে আজ রবিবার (১৯ জুলাই) বিজিবি জানায়, প্রকাশিত সংবাদ ও বিবৃতিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। প্রকৃতপক্ষে ভারতীয় চোরাকারবারীদের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় ভারতের মাটিতে গরু সমাগম ও নদীপথে গরু পাচারে বিএসএফ-এর নিষ্ক্রিয়তা ও তৎপরতার অভাব নিঃসন্দেহে বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দেয়। ভারতীয় গরু পাচারকারীরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় বাংলাদেশে গরু পাচারে অতি উৎসাহী হয়। এতে করে আমাদের দেশীয় খামারগুলো প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, এটি ইসলাম ধর্মের বৃহত্তর ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহার জন্য অবমাননাকর। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হানার সামিল। একইসাথে ভারত থেকে গরু পাচারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সমর্থন আছে এমন সংবাদেরও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবি বলেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ব্যর্থতা ঢাকার জন্যই ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশের কুরবানীর ঈদ নিয়ে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গরু চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, পুলিশ, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে জনসচেতনতামূলক সভা আয়োজন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাত্রিকালীন পাহারা ও সীমান্তে বিজিবি’র টহল বৃদ্ধিসহ কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এবং প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য মতে জানা গেছে বিগত বছর সারাদেশে ১ কোটির সামান্য কিছু বেশি পশু কুরবানী হয়। এবার করোনা মহামারী কারণে ধারণা করা হচ্ছে এই সংখ্যা ১ কোটির কিছু কম হবে। এই চাহিদা মাথায় রেখে দেশে ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০টি গবাদিপশু মজুদ রয়েছে।

শেয়ার করুণ
  •