মুসলমানদের পরিচয় বদলে দিতে কাশ্মীরে হাজার হাজার বহিরাগতকে নাগরিকত্ব দিচ্ছে ভারত

মুসলিম অধ্যুষিত ভারত দখলকৃত স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরে ১৮ মার্চের পর থেকে প্রায় ২৫,০০০ মানুষকে নাগরিকত্বের সনদ দিয়েছে ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার। স্থানীয় রাজনীতিবিদদের বিশ্বাস, এ অঞ্চলের মুসলমানদের জনসংখ্যার চেহারা বদলে দিতেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এই সনদের অধীনে অনেকটা নাগরিকত্বের অধিকার দেয়া হয়েছে, যেটা একজন ব্যক্তিকে এই অঞ্চলে বসবাসের এবং সরকারী চাকরির অধিকার দেবে। গত বছর পর্যন্ত এই অধিকার শুধুমাত্র স্থানীয়দের জন্য নির্ধারিত ছিল। গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার যখন মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীরের আধা-স্বায়ত্বশাসনের অধিকার কেড়ে নেয়, তখন স্থানীয়দের বিশেষ নাগরিকত্ব আইনও তারা বাতিল করে। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(এ) তে তাদের এই অধিকার দেয়া ছিল।

এই আইনের কারণে ভারতের অন্যান্য এলাকার নাগরিকরা এখানে বসতি গড়তে বা এখানকার সরকারী চাকরিতে অংশ নিতে পারতো না। জনসংখ্যার প্রকৃতি ঠিক রাখার জন্যেই এই আইনটি করা হয়েছিল।

শুক্রবার (২৬ জুন) নাভিন কুমার নামের একজন আমলার নাগরিকত্ব সনদ ইস্যু করার একটি ছবি ভাইরাল হয়ে যায়। নাভিন কুমার মূলত বিহারের বাসিন্দা। চলতি বছরের এপ্রিলে চলমান করোনা ভাইরাস লকডাউনের মধ্যে মোদি সরকার উল্লেখ করে যে, স্থানীয় অধিবাসী আইনের অধীনে অনির্ধারিত সংখ্যক বহিরাগত এখানকার অধিবাসী হচ্ছে ও চাকরির সুযোগ পাবে তারা।

নতুন আইন অনুসারে, যে সব ব্যক্তি এই অঞ্চলে ১৫ বছর ধরে বাস করছে, বা এখানে সাত বছর লেখাপড়া করেছে এবং এখানে দশম বা দ্বাদশ বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, তারা এখানকার স্থানীয় অধিবাসীর সনদ পাওয়ার উপযুক্ত বিবেচিত হবে।

তাছাড়া, ভারতের সরকারী চাকুরিজীবীদের সন্তান – যারা এই রাজ্যে ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেছে, তারাও এখানে বসত গড়ার উপযুক্ত হবে এবং নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবে। তাদের সন্তানেরা যদি কখনও কাশ্মীরে বাস না-ও করে থাকে, তার পরেও তারা এর উপযুক্ত হবে।

কাশ্মীরের রাজনীতিবিদরা বলেছেন যে, যেভাবে বিশেষ নাগরিকত্বের অধিকার দেওয়া হচ্ছে, সেটার উদ্দেশ্য হলো এই অঞ্চলের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতার চিত্র বদলে দেওয়া। ২০১১ সালে ভারতে যে আদমশুমারি করা হয়েছিল, সেটার তথ্য অনুসারে জম্মু ও কাশ্মীরের ৬৮.৩১ শতাংশ হলো মুসলিম, আর হিন্দু হলো ২৮.৪৩ শতাংশ।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ১৮ মে মোদী সরকারের এক কর্মকর্তা আনাদোলু এজেন্সিকে জানান, যখন এই সংক্রান্ত নোটিশ জারি করা হয়, যখন ৩৩ হাজার মানুষ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করে। এদের মধ্যে ২৫,০০০ ব্যক্তিকে নাগরিকত্বের সনদ দেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে হিন্দু প্রধান জম্মু অঞ্চলের ১০টি জেলায় আবেদন জমা পড়েছে ৩২,০০০। সবচেয়ে বেশি ৮,৫০০ সনদ দেয়া হয়েছে দোহা জেলায়। এই জেলাটিতে জনসংখ্যার মধ্যে একটা ভারসাম্য ছিল। সেখানে ৫৩.৮১% মুসলিম এবং ৪৫.৭৬% ছিল হিন্দু। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তিনটি যুদ্ধ হয়েছে – ১৯৪৮, ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালে। এর মধ্যে দুটিই হয়েছে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে।

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর