চুরির অপবাদে দুই শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করল পাষণ্ড পঞ্চায়েত নেতা

চুরির অপবাদে চা শ্রমিকের দুই শিশুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কুরমা চা বাগান শাখার পঞ্চায়েত কমিটির সহসভাপতিকে আটক করেছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা চা বাগানের অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটলে রাতেই তাকে আটক করা হয়।

এ সময় সেখানে এলাকার ইউপি সদস্যসহ পঞ্চায়েত কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এসব নেতার ক্ষমতার ভয়ে ওই দুই শিশুকে রক্ষা করতে কেউ এগিয়ে আসেনি।

নির্যাতনের শিকার জগৎ নুনিয়া (১৩) এর মা সাবিত্রী নুনিয়া বলেন, ‘বিনা অপরাধে তাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বেঁধে বেধড়ক পেটানো হয়েছে। এ সময় ইউপি সদস্য দীপেন সাহা,পঞ্চায়েতের সভাপতি নারদ পাশি, সহ-সভাপতি সাহাদত হোসেনসহ পঞ্চায়েত নেতারা তাদের পিটিয়েছেন।’

অপর শিশু মুন্না পাশি (১২) এর বাবা গোপাল পাশি বলেন, ‘আমার ছেলে ও জগৎ নুনিয়াকে চুরির অপবাদ দিয়ে মামুন নামে বাগানের এক কর্মচারী, পঞ্চায়েত নারদ পাশিসহ অন্যরা বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। পরে তাদের বাগানের নাচ ঘরে বেঁধে মারধর করে। তাদের দুজনকে গাছের সঙ্গে ফ্যাক্টরির সামনে পেছনে হাত নিয়ে বেঁধে রাখে। তারা চুরি করেনি জানালে তাদের বেধড়ক পেটায় পঞ্চায়েতের লোকজন। ভয়ে কেউ তাদের রক্ষা করতে আসেনি। প্রায় ৪ ঘণ্টা তাদের বেঁধে রাখা হয়।’

নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করেছেন দুই শিশুর পরিবার।

নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে ইউপি সদস্য দীপেন সাহা বলেন, ‘তাদের বেঁধে রাখা হয়েছিল। তবে, ম্যানেজারের কথায় তিনি ছাড়তে পারেননি।’

মারধরের ঘটনা অস্বীকার করে চা বাগানের ম্যানেজার শফিকুর রহমান বলেন, তাদের বেঁধে রাখা হয়েছিল।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, ‘মোবাইল চুরির জন্য দুই শিশুকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কুরমা চা বাগান শাখার পঞ্চায়েত কমিটির সহ-সভাপতি সাহাদত হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। অন্যরা পলাতক আছেন।’