প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডে অধরা রয়ে গেল যুবলীগ নেতা; উল্টো নিহতের পরিবারকে হুমকি

প্রকাশ্যে ষাটোর্ধ্ব চাচাতো ভাই ব্যবসায়ী আক্তার হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তাকে ধরতে রাতে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।

সেই সাথে ট্রেকিং করা হচ্ছে তার মোবাইল ফোন এবং তার ঘনিষ্ঠ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাদের ফোনও। প্রতাপশালী এই কাউন্সিলর গ্রেপ্তার না হলেও নিহতের পরিবারকে হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি নিহতের পরিবার জানিয়েছে প্রশাসন ও পুলিশকেও। বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে আসা এই কাউন্সিলর ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে এলাকায় অভিযোগের অন্ত নেই। চাঁদাবাজি, শালিসের নামে অর্থ আদায়, বিরোধপূর্ণ জমিতে ভাগ বসানো, ভূমিদস্যুতা, মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। আপন চাচাতো ভাইয়ের ৫ শতক জমিও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দখল করে নেওয়া অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এদিকে ষাটোর্ধ্ব চাচাতো ভাই আক্তার হোসেনকে এসএস রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় কাউন্সিলরসহ তার ৫ ভাইকে আসামি করা নিহতের স্ত্রী রেখা আক্তার বাদী হয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। হত্যায় ঘটনায় গ্রেপ্তার কাউন্সিলরের তিনভাইকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শনিবার আদালত বন্ধ থাকায় তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয় এবং পরে শুনানির কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার জুমু’আর নামাজ শেষে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার চাঙ্গিনী দক্ষিণ মোড়ের বায়তুল নূর জামে মসজিদের সামনে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেন ও তার ভাইসহ তাদের লোকজন আক্তার হোসেনকে এসএস পাইপ দিয়ে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করে। শনিবার দুপুরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শনিবার বাদ আসর গন্ধমতি জামে মসজিদে নিহত আক্তার হোসেনের জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।


দাফনের সময় নিহত আক্তার হোসেনের ছোটভাই শাহজালাল আলাল অভিযোগ করে জানান, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা নানাভাবে আমাদের হুমকি ধমকি দিচ্ছে। শুক্রবার ও শনিবার তারা হুমকি দিয়েছে। নিহতের স্ত্রী রেখা আক্তার আহাজারি করতে করতে জানান, কাউন্সিলর নির্বাচনের সময় আমরা আলমগীরের পক্ষে কাজ করেছিলাম। শুক্রবার যখন আমার স্বামীকে মারছিল তখন আমরা আলমগীর, জাহাঙ্গীরের কাছে মাফ চাইছিলাম। আমাদেরকে মাফ করে দে। কিন্তু মাফ করে নাই। আমার স্বামীরে মাইরাই ফেলছে।

About |

Check Also

রায়হানের বাড়িতে পুলিশ সদর দপ্তরের তদন্ত দল

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ‘পুলিশি নির্যাতনে’নিহত রায়হান আহমদের আখালিয়ার নেহারীপাড়াস্থ বাসায় তার পরিবারের …