আল্লামা মুনিরুজ্জামানের ইন্তেকালে আল্লামা বাবুনগরীর শোক প্রকাশ

জামিয়া সিরাজিয়া দারুল উলুম ভাদুঘর মাদরাসার মহাপরিচালক ও শায়খুল হাদীস মাওলানা মুনিরুজ্জামান সিরাজীর ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন হাটহাজারী মাদরাসার মুহাদ্দিস ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব শায়খুল হাদীস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

আজ (৯ আগস্ট) রবিবার সংবাদ মাধ্যমে প্রেরিত এক শোকবার্তায় আল্লামা বাবুনগরী বলেন, আল্লামা মুনিরুজ্জামান সিরাজী রহ. বাংলাদেশের একজন শীর্ষ আলেম ও বুজুর্গ ব্যক্তি ছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর জন্য তিনি ছিলেন রত্নতুল্য ৷ তার ইন্তেকালে বাংলার ইলমাকাশের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র ঝরে পড়েছে ৷

ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী হারিয়েছে একজন নিবেদিতপ্রাণ আলেমে দ্বীনকে ৷ তাঁর ইন্তেকালে ইলমী অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা কভু পূরণ হবার নয়। ইতিহাস তার অমর কীর্তি চিরকাল স্মরণ রাখবে। আমি তার ইন্তেকালে গভীরভাবে শোকাহত।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, আল্লামা মুনিরুজ্জামান রহ. এর পিতা আল্লামা সিরাজুল ইসলাম বড় হুজুর রহ. একজন প্রখ্যাত বুজুর্গ ব্যক্তি ছিলেন। আল্লামা মুনিরুজ্জামান রহমাতুল্লাহি আলাইহিও ছিলেন যোগ্য পিতার যোগ্য সন্তান।

তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একজন প্রতিবাদী কন্ঠ, ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার পাত্র। শিরক, বিদআত ও ভ্রান্ত মতাদর্শ এবং নাস্তিক্যবাদের বিরুদ্ধে আল্লামা মুনিরুজ্জামান রহ. এর প্রতিবাদী ভুমিকা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে।তিনি কখনো বাতিলের সাথে আপস করেন নাই। পিতার ইন্তেকালের পর তিনিই ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দ্বিতীয় বড় হুজুর।

স্মৃতিচারণ করে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, ”আল্লামা মুনিরুজ্জামান রহ. এর সাথে আমার ছিলো আন্তরিকতাপূর্ণ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তিনি আমাকে খুব বেশি মুহাব্বত করতেন। আমিও তাঁকে যথেষ্ট সম্মান করতাম। বিভিন্ন মাহফিলে মুনিরুজ্জামান সাহেবের সাথে আমার একাধিকবার সাক্ষাৎ হয়েছে। অনেক বিনয়ী প্রকৃতির মানুষ ছিলেন তিনি। মুনিরুজ্জামান সাহেবের বিশেষ নিমন্ত্রণে আমি ওনার বাড়িতেও গিয়েছি।

গত ২১ ই ডিসেম্বর ২০১৯ ইং শনিবার জামিয়া ভাদুঘরের তিন যুগ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আন্তর্জাতিক ইসলামি সম্মেলনে মুনিরুজ্জামান সাহেবের সাথে আমার সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিলো। এবং আমি সেই সম্মেলনে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেছিলাম।”

আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী মরহুমের শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, মহান প্রভুর দরবারে আমি দুআ করি, আল্লাহ তাআলা তাঁর সকল দ্বীনি খেদমতকে কবুল করুন এবং ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন, আমিন।

Previous post নাজিরহাট মাদরাসা ইস্যুতে আল্লামা শফীর বিরুদ্ধে মামলা; হাটহাজারীর শিক্ষকদের প্রতিবাদ
Next post অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পদত্যাগ দাবিতে এ যাবতকালের বড় বিক্ষোভ