মোদির কাছে খোলা চিঠি : কাশ্মীরে মুসলমান গণহত্যার জবাব চাইছে জাতিসংঘ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নাহিয়ান হাসান মাহির


গত বছরের জানুয়ারি থেকে দখলকৃত স্বাধীনতাকামী কাশ্মীরের মুসলমানদের ওপর নির্যাতন, গণহারে আটক ও ধরে নিয়ে এসে হত্যার অভিযোগে সেখানকার মানবাধিকার অবস্থা তুলে ধরতে ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের কাছে খোলা চিঠি দিয়েছে জাতিসংঘ।

সংস্থাটির চারজন বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা গত মে মাসে চিঠিটি নরেন্দ্র মোদির কাছে পাঠান। ওই চিঠিটি গত শনিবার (৪ জুলাই) জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার হাই কমিশনারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে পুনরায় প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, কাশ্মীরের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে আমরা অনবরত গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

কাশ্মীরে মুসলমানদের ওপর নির্বিচারে গণহত্যা, নির্যাতন ও দুর্ব্যবহার সম্পর্কিত গুরুতর অভিযোগের একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করার এবং সন্দেহভাজন অপরাধীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার জন্য তারা মোদিকে আহ্বান জানিয়েছেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা বলেন, কাশ্মীরীদের গণহারে গ্রেপ্তার, সরকারের তত্বাবধানে থাকা অবস্থায় মৃত্যু, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, সীমাহীন নির্যাতন ও বিভিন্ন ধরনের অনবরত দুর্ব্যবহারের যে অভিযোগ এবং তথ্য-উপাত্ত আমরা পেয়েছি, সে ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।

ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্যাতনের এক ডজনেরও বেশি মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, কাশ্মীরীরা জাতিগত অথবা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও হত্যার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে, যা খুবই ন্যক্কারজনক ও নিন্দনীয়।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আমরা কমপক্ষে ৪টি কেস এমন পেয়েছি যেখানে ভুক্তভোগীদের সবাই নির্বিচারে গ্রেপ্তার, নির্যাতন ও অন্যান্য খারাপ আচরণের ফলে মৃত্যুবরণ করেছে।

মামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম হল, গত বছরের ১৯ মার্চ ভারতীয় পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়া ২৯ বছর বয়সী শিক্ষক রিজওয়ান পন্ডিতের মৃত্যু। পন্ডিতের প্রাথমিক ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই প্রতিবেদনে বলা হয়, একাধিক আঘাতের কারণে রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এমনকি তার মরদেহে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে বলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনটি জনসম্মুখেও প্রকাশ করা হয়নি।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলেন, কাশ্মীরের মানবাধিকার চিত্রের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দ্বিতীয় মেয়াদের নির্ধারিত ৬০দিনের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও নয়াদিল্লি এখনো তার জবাব দেয়নি। এর কোনো সদুত্তর না থাকায় গেল বছরের ১৬ আগস্ট ও চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়াররির এই দুটি তারিখে দুই দুইবার ভারত সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

নির্যাতন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, সংখ্যালঘু ইস্যু এবং ধর্মের স্বাধীনতার বিষয়ে জাতিসংঘের এই চারজন বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযুক্ত মামলাগুলির পাশাপাশি পরবর্তী তদন্তের গতিবিধি সম্পর্কে আরও বিশদ বিবরণ দিতে ওই চিঠিতে অনুরোধ করেছেন।

আরোপিত অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি পেতে ভারতের মোদি সরকার কী জবাব দিবে এবং কাশ্মীরের মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণার্থে তারা কী পদক্ষেপ নিবে, তার বিস্তারিত বিবরণও জানতে চেয়েছেন এই চার তদন্ত কর্মকর্তা।

১৯৪৭ সালে ভারত- পাকিস্তান বিভক্ত হওয়ার পর থেকে ১৯৪৮,১৯৬৫ ও ১৯৭১ সনে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মাঝে তিনটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যার মধ্যে দুটি যুদ্ধই ছিলো কাশ্মীর নিয়ে।


এছাড়াও উত্তর কাশ্মীরের সিয়াচেন হিমবাহে ভারত এবং পাকিস্তানের সেনাদের মাঝে ১৯৮৪ সাল থেকে খণ্ডযুদ্ধ সংঘটিত হয়ে আসছে। উক্ত অঞ্চলে ২০০৩ সালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।

১৯৮৮ সালে ভারত দখলকৃত কাশ্মীরিরা প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেয়। ১৯৮৯ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামে হাজার হাজার স্বাধীনতাকামী যোদ্ধা শাহাদাত বরণ করেন। সেই থেকে স্বাধীনতার স্বপ্ন নিয়ে আজো প্রহর গুণছেন কাশ্মীরের মুসলমানরা।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি