সরকারের চূড়ান্ত ব্যর্থতায় করোনা টেস্ট নিয়ে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, করোনা টেস্ট নিয়ে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় মাত্রায় পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় সংক্রমণের নানা উপসর্গ নিয়েই হাজার হাজার মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং সামাজিক সংক্রমণ জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলেছে। সাড়ে ৩ মাস অতিক্রান্ত হলেও সরকারের চূড়ান্ত ব্যর্থতায় এখন সর্বত্রই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে সরকার ‘ভাইরাস রাজনীতিকরণে’ ব্যস্ত। করোনা মহামারী মোকাবিলায় কেন্দ্রীয়ভাবে কাজের সমন্বয় নেই। নেই সুনির্দিষ্ট কোনো পলিসিও। বড় সমস্যা হচ্ছে, কোভিড-১৯ এর মতো মহাদুযোর্গ মোকাবিলায় সরকারের একের পর এক ভুল, আত্মঘাতী ও সমন্বয়হীন সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপে আজ হাজার হাজার মানুষ মৃত্যু ঝুঁকিতে। ক্ষমতাসীনদের মনোযোগ দুর্নীতি-লুটপাটে। এরা(সরকার) ভাইরাসের রাজনীতিকরণে ব্যস্ত আছে।

তিনি বলেন, নমুনা পরীক্ষায় স্বাস্থ্য বিভাগের সক্ষমতা নেই। পরীক্ষার জন্য উপযুক্ত ল্যাব ও দক্ষ জনবল না থাকায় লক্ষ্য নির্ধারণ করে নমুনা পরীক্ষায় নামতে পারছে না স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রকট হয়ে উঠেছে স্বাস্থ্য বিভাগে সক্ষমতার অভাব। করোনা নমুনা সংগ্রহের সরঞ্জাম এবং পরীক্ষার কিটের স্বল্পতা জটিল আকার ধারণ করেছে। পরীক্ষার রিপোর্ট দিতে ঢের বিলম্ব হচ্ছে। মফস্বল থেকে জেলা সদরের ল্যাবে নমুনা পৌঁছে স্তুপ হয়ে পড়ে থাকছে। ফলে এর রিপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এতে দেশে আক্রান্তের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না।

গত ২১ জুন শ্যামনগরে দুর্গতদের মধ্যে বিএনপি কর্তৃক ত্রাণসামগ্রি বিতরণকালে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করেন রিজভী।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সোমবার বলেছেন, “কোথায় কে বাধা দিয়েছে আপনারা স্পষ্ট করুন, তথ্য-প্রমাণ দিন। অভিযোগ সত্য হলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। মানবিক কাজে বাধা প্রদান আওয়ামী লীগের নীতি নয়।” তার বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষ গণমাধ্যমে ও টেলিভিশনের ফুটেজে দেখেছেন ছাত্রলীগ-যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ কীভাবে ত্রাণ বিতরণের বহরে তাণ্ডব চালিয়েছে। তথ্য প্রমাণ প্রতিটি মিডিয়ায় আছে। কিন্তু কে বাধা দিয়েছে তা কাদেররা জানেনও না, দেখেনও নি। সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে দিবানিদ্রা গেলে জানবেন কীভাবে, দেখবেন কীভাবে? দেশের মানুষের ঘোরতর সন্দেহ, এই হামলা সরকারের উপর মহলের ইঙ্গিতে ও জ্ঞাতসারেই হয়েছে। একারণে তাদের দলের পোষ্য সন্ত্রাসীদের এতো বড় অপকর্মকে আড়াল করতে চাচ্ছেন তারা। তথ্য-প্রমাণ জানার জন্য সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা আছে। বিভিন্ন এজেন্সি আছে। স্থানীয় প্রশাসন আছে। জনগণের টাকায় তারা বেতন পাচ্ছেন। কাজেই উক্ত অপকর্মগুলোর তথ্য তো কাদের সাহেবদেরই সর্বপ্রথম জানার কথা। কিন্তু সরকারি বাসভবনে বসে ভিডিওবার্তায় তথ্য-প্রমাণ চাওয়াটা হাস্যকর। আজকে দিনের সূর্য পূর্ব দিকে উঠেছে, এটার প্রমাণ দরকার আছে?

বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এমনিভাবে ইতোপূর্বেও নারায়ণগঞ্জের মহিলা কাউন্সিলর ও মহিলা দল নেত্রী আয়শা আক্তার দীনা এবং ফেনীতে কৃষকদল নেতা আলমগীর চৌধুরী এবং ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন কমান্ডার নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দলের পক্ষ থেকে গরিব ও দুস্থদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করতে গেলে স্থানীয় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। একই সাথে ত্রাণ সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। রাজশাহীর তানোর ছাত্রদল নেতা আবদুল মালেককে ত্রাণ বিতরণের সময় গ্রেফতার করে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এই ভয়াবহ দুর্দিনে সরকার যখন বেছে বেছে আওয়ামী লীগের লোকদেরকে ত্রাণ দিচ্ছে তখন বিএনপি প্রকৃত সাধারণ দুস্থ ও অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে ত্রাণ সামগ্রী। আর তাতে হামলা ও লুটপাট চালাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীরা। কোনো কোনো স্থানে আওয়ামী লীগের বি-টিমের ভূমিকা পালন করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রিজভী বলেন, এছাড়া শুধু নিজের মত প্রকাশের জন্য আইসিটি আইনে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মীকে কয়েকদিন গুম করে রাখার পর মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। যখনই আমরা জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করছি তখন কাদের তথ্য-প্রমাণ চান। এ ধরণের সন্ত্রাসী ঘটনার সময় কি সরকারের মন্ত্রীরা কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমিয়ে থাকেন?

তিনি আরও বলেন, করোনাকালে আওয়ামী লীগ চরিত্র বদলায়নি। ত্রাণ লুট-চুরিতে তারা রেকর্ড করেছে। কয়েকদিন আগেই ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ নেতার গ্যারেজ থেকে ১২’শ বস্তা চাল উদ্ধার হয়েছে। এই করোনাকালে ক্ষমতাসীনদের এ ধরণের অসংখ্য ঘটনা মানুষের মুখে মুখে। ফলে আমাদের দলের নেতাকর্মীরা ত্রাণ দিতে গেলে বিনা ভোটের মিডনাইট সরকারের গাত্রদাহ হওয়াটাই স্বাভাবিক।