বেইজিংকে পাকিস্তানের মতো মনে না করতে ভারতকে চীনের হুঁশিয়ারি

লাদাখ অঞ্চলে চীনা ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে ছয় সপ্তাহের চেয়ে বেশি সময় ধরে চলা অচলাবস্থার মধ্যে প্রথমবারের মতো চীনের কৌশলগত বিশেষজ্ঞরা ভারতকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, “পাকিস্তান ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সাথে তারা যে ধরণের আচরণ করে, চীনের সাথে যাতে সেটা করার চেষ্টা তারা না করে”।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র গ্লোবাল টাইমস পরোক্ষভাবে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের প্রতি ইঙ্গিত করেছে। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে উরি হামলায় সেনা নিহতের ঘটনায় এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ভারত ওই
হামলা চালিয়েছিল। কিছু বিশেষজ্ঞের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি ভারতকে এই সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, চীনের বিরুদ্ধে এ ধরণের কোন পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করা হলে তার ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হবে।

লিন বলেন, “ভারত যখন পাকিস্তান বা অন্যান্য প্রতিবেশীদের সাথে সঙ্ঘাতে লিপ্ত হয়, তখন জাতীয়তাবাদ হয়তো নয়াদিল্লীকে অভিযানের সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করে, কিন্তু চীনের প্রসঙ্গে বিষয়টি ভিন্ন”।

সংবাদপত্রটিতে বেইজিং-ভিত্তিক সামরিক বিশেষজ্ঞ ওয়েই ডোংশুকেও উদ্ধৃত করা হয়েছে, যিনি শুক্রবার সর্বদলীয় বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে বলেছেন যে, “ভারতীয় বাহিনী যে কোন পদক্ষেপ নিতে পারে বলে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, সেটা দেশের জনগণকে তুষ্ট করা এবং ভারতীয় সেনাদের মনোবল শক্ত করার জন্য বলা হয়েছে’।

১৫ জুন লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সঙ্ঘটিত সঙ্ঘর্ষের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি এ মন্তব্য করেন। ওই সঙ্ঘর্ষে ২৩ ভারতীয় সেনা নিহত এবং ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছে।

ওয়েই বলেন: শুধু সামরিক দিক থেকে নয়, বরং সার্বিকভাবে আন্তর্জাতিক প্রভাবের দিক থেকে চীন ভারতের চেয়ে অনেক অগ্রসর জায়গায় রয়েছে।