ভারতকে ঠেকাতে সীমান্তে হেলিপ্যাড নির্মাণের পরিকল্পনা করছে নেপাল

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে উত্তেজনার মধ্যে বিহারের পশ্চিম চাম্পারান জেলার সঙ্গে ইন্দো-নেপাল সীমান্তের একটি বিতর্কিত ভূখণ্ডের কাছে হেলিপ্যাড নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে নেপাল।

ভারতীয় কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন বলে সাউথ এশিয়ান মনিটর এর খবরে বলা হয়েছে।

তারা জানান, প্রস্তাবিত হেলিপ্যাড করা হবে নরশাহি গ্রামে, যা সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)’র থারি সীমান্ত আউটপোস্টের (বিওপি) কাছাকাছি। পশ্চিম চাম্পারান জেলায় বাল্মিকি টাইগার রিজার্ভের কাছে বিওপি’র অবস্থান। আর এটি জেলা সদরদফতর বেত্তিয়াহ থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে।

ভারতীয় ২১ এসএসবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডেন্ট রাজেন্দ্র ভারদোয়াজ বলেন, আমাদের পাওয়া তথ্য মতে নেপাল নরশাহি গ্রামে একটি হেলিপ্যাড নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে, যেটা বিতর্কিত ভূখণ্ড। এরই মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

ঘটনা সম্পর্কে তাদের সদর দফতরকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি জানান।

পশ্চিম চাম্পারান জেলার সঙ্গে ইন্দো-নেপাল সীমান্তের কাছে নরশাহি গ্রাম নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টির জন্য ভারতীয় কর্মকর্তারা গন্ধক নদীর গতি পরিবর্তনকে দায়ি করেন।

ভারদোয়াজ বলেন, গন্ধক নদীর মাঝ বরাবর নেপাল ও ভারতের আন্তর্জাতিক সীমানা হবে বলে ঐক্যমত রয়েছে। ১৯৭০’র দশক থেকে নদীটি গতিপথ বদল করছে। ফলে নরশাহি নদীর অপর পারে চলে গেছে। পরে সেখানে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকরা এপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে চলে আসে।

নেপালের পার্লামেন্ট সম্প্রতি নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র অনুমোদন করেছে। এতে লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুরার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বিহারের সঙ্গে নেপালের প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। গত মাসে সীমান্তের লাল বাকেই নদীতে ভারত বাঁধ দিতে চাইলে নেপাল তাতে বাধা দেয়। ভারতীয় নির্মাণের কিছু অংশ নেপালে পড়েছে বলে দাবি করা হয়।

বিহারের সীমান্ত নিয়ে গত দুই মাস ধরে ভারতের সঙ্গে নেপালের বিবাদ চলছে।

১৩ জুন নেপাল কর্তৃপক্ষ সীমান্ত থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে অজ্ঞাত এক কোভিড-১৯ রোগীর লাশ মাটিচাপা দিলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।

১২ জুন নেপালের সশস্ত্র পুলিশ কথা কাটাকাটির জের ধরে গুলি করে এক ভারতীয় যুবককে হত্যা ও আরো দুই জনকে আহত করে।

সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর ও হিন্দুস্তান টাইমস