কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে শীর্ষ কূটনীতিক ও মুসলিম নেতৃবৃন্দের উদ্বেগ প্রকাশ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | সোহেল আহম্মেদ


শীর্ষ কূটনীতিকসহ মুসলিম দেশগুলির একাধিক নেতা কাশ্মীরের অবরোধের নিন্দা জানিয়ে ভারতকে সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। খবর আনাদোলু এজেন্সি’র।

মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট) ওয়ার্ল্ড কাশ্মীর অ্যাওয়ারনেস ফোরাম (ডব্লিওকেএএফ) এর উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনলাইন সেমিনারে বক্তব্য প্রদানকালে অরগানাইজেশান অব ইসলামিক কো-অপারেশন হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আদামা নানা ভারত-শাসিত কাশ্মীরে সারা বছর ধরে লকডাউন ও যোগাযোগ ব্লকআউটের নিন্দা জানিয়ে বলেন, “ভারত সরকার মানবাধিকার কর্মীদের এবং নিরীহ মানুষের উপর মিথ্যা অভিযোগ এনে তাদের উপর কঠোর আইন প্রয়োগ ও নির্যাতন করেছে যা মারাত্মকভাবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।”

তিনি আরও বলেন, অব্যাহত অবরুদ্ধকরণ কাশ্মীরের বাসিন্দাদের একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করেছে।

জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি মুনির আকরাম বলেছেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আলোচনার সব দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং কাশ্মীরের নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করে চলছেন।”

তিনি বলেন, “ভারত কাশ্মীরে ৯ লক্ষেরও বেশি সেনা মোতায়েন করেছে এবং নিরীহ মানুষের উপর নৃশংসতা চালাচ্ছে।”

তিনি আরো বলেন, “আমি কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কিত দুটি ডকুমেন্ট জাতিসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিলের কাছে জমা দিয়েছি।

এসময় তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কাশ্মীরিদের সমর্থনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তুরস্কের ইসলামিক ও বৈশ্বিক বিষয়ক কেন্দ্রের পরিচালক সামি আল-আরিয়ান বলেছেন, কাশ্মীরি ও ফিলিস্তিনি জনগণ সামরিক শক্তির সাথে জাতিগত আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের জন্য লড়াই করছে এবং বর্ণবাদী এবং জায়নিস্ট শক্তির মুখোমুখি হচ্ছে।

আরিয়ান আরো বলেন, “কাশ্মীরি ও ফিলিস্তিনি উভয় দেশ দারিদ্র্যে ভুগছে কারণ দখলদার বাহিনী তাদের বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধন করেছে এবং নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করছে।”

তিনি ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “ইহুদিবাদী ইসরাইল ও ভারত সরকার ইসলামোফোবিয়ার প্রচার করছে যখন বিশ্ব শক্তিগুলি উভয় দেশকে নিরীহ মুসলমানদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।”

আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের রাষ্ট্রপতি সর্দার মাসউদ খান জাতিসংঘের সুরক্ষা কাউন্সিলের দীর্ঘকাল ধরে নিরবতার সমালোচনা করে বলেন, “ইউএনএসসির প্রধান শক্তিগুলি বিশ্বব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী ইস্যু সমাধানে আগ্রহী নয়। ভারতীয় বাহিনী নিরীহ কাশ্মীরিদের হত্যা করছে আর বিশ্ব তাদের গণহত্যার বিষয়ে নীরব রয়েছে।”

তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করার ভারতীয় পদক্ষেপ অবৈধ ছিল এবং কাশ্মীরিরা এটি প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রখ্যাত ব্রিটিশ লেখক, জীবনীবিদ এবং ইতিহাসবিদ ভিক্টোরিয়া শোফিল্ডও সেমিনারে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “কাশ্মীরিরা একটি সুন্দর উপত্যকায় বাস করছে। অন্যদের মতো তাদেরকেও স্বাধীনভাবে বসবাস করার অধিকার দেওয়া উচিৎ।”

এছাড়াও সেমিনারে মালয়েশিয়ান কলসালটেটিভ কাউন্সিল অব ইসলামিক অরগানাইজেশানের সভাপতি মুহাম্মদ আবদুল হামিদ, কেনিয়া থেকে ইব্রাহিম বুলুশি, ডব্লিউকেএএফের প্রধান গোলাম নবী মীর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা কাশ্মীরের বছরব্যাপী সামরিক অবরোধ অবিলম্বে উত্তোলন, সমস্ত ইন্টারনেট সংযোগ এবং যোগাযোগের লিঙ্ক সচল এবং শিশু, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের সদস্যদের সহ সকল রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান।