সরানো হচ্ছে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ডজনখানেক কর্মকর্তাকে

সরিয়ে দেয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ডজনখানেক কর্মকর্তাকে। এর মধ্যে বদলি করা হয়েছে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজনকে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘটনার তদন্ত না করে শুধু বদলি লোক দেখানো ছাড়া আর কিছুই নেই। এদিকে দুদক বলছে, কেন এই কর্মকর্তাদের বদলি করা হচ্ছে, সে বিষয়েও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে তথ্য চেয়েছে তারা।

অব্যবস্থাপনার আতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে দেশের স্বাস্থ্যখাত। করোনার মতো মহাদুর্যোগে বের হয়ে আসছে বছরের পর বছর ধরে চলা সিন্ডিকেটের গোমর। শৃঙ্খলা ফেরাতে শুদ্ধি অভিযান শুরু। তালিকায় অছেন ডজনখানের কর্মকর্তা। চলতি সপ্তাহে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক পরিচালকসহ ৪ কমকর্তাকে সরানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে রদবদল হয়েছে সচিব ও অতিরিক্ত সচিবকে। অধিদপ্তরের বদলিকৃত পরিচালকের বিরুদ্ধে কেনাকাটায় ও পরিকল্পনায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে আইসোলেশানে থাকার কথা জানান অভিযুক্ত পরিচালক ডা. ইকবাল কবীর। বদলি হয়ে যাওয়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জানালেন, তিনি এখন নতুন কর্মক্ষেত্র কৃষি মন্ত্রণালয় ছাড়া ভাবছেন না।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব হাবিুবর রহমান খান জানান, সিন্ডিকেট সাধারণত থাকে নরমাল কেনাকাটা বেজড, প্রকিউরম্যান্ট বেজডে সিন্ডিকেট থাকতে পারে না। আমি যেহেতু প্রকিউরম্যান্ট দেখতাম না, কাজেই আমার ঠিক ধারণা নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মাত্র বদলির মাধ্যমে যেন দুর্নীতির ঘটনাগুলো চাপা পড়ে না যায়।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, এননাইন্টি ফাইভ মাস্কের মত ঘটনাগুলো সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা উচিত। এটা যদি শুধুই রদবদল হয় তাহলে এ ক্ষেত্রে ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে দুদক বলছে, তাদের সুপারিশে এসব কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়নি। বরং কেন বদলি করা হচ্ছে, সেটিই তারা জানতে চাইবে।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ জানান, মাস্ক-পিপিই এগুলো আমরা যখন রিপোর্ট দিয়েছি, রিপোর্টের পরের ঘটনা এগুলো। সো দেয়ার ইজ নো লিঙ্ক বিটুইন আওয়ার রিকোম্যান্ডশন। বদলি কোনো রিফর্ম ইন্ডিকেট করে না। আপনি একটা অন্যায় করলেন বা আপনাকে বদলি করা হলো, ইট ইজ নট দ্যা সল্যুশান। বদলির বিষয়ে আমরা তথ্য চেয়েছি। কারণ যাদেরকে বদলি করা হয়েছে, তারা সত্য বলাতে বদলি হয়ে গেছেন, এমন অভিযোগ আছে।