এশার নামাজের পর বৈঠকে বসবেন শুরা সদস্যগণ

৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করছে দেশের প্রধানতম কওমী মাদরাসা চট্টগ্রামের মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর ছাত্ররা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জোহরের নামাজের পর থেকে ছাত্ররা এ বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে এশার নামাজের পর বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মাদরাসায় উপস্থিত হওয়া শুরা সদস্যগণ।

বৈঠকের উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে হাটহাজারীতে উপস্থিত হয়েছেন মাদরাসার শুরা সদস্য মেখল মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা নোমান ফয়েজী ও নানুপুর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা সালাহউদ্দীন নানুপুরী। আরও কিছু শুরা সদস্য উপস্থিত হবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে মাদরাসা এলাকার আশপাশের লাইট বন্দ করে দেওয়া হয়েছে। গেটের বাইরে অবস্থান করছে র‌্যাব, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তা জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন সারাদেশের কওমী মাদরাসা ও তাওহিদী জনতা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৬দফা দাবিগুলো হলো,

১। অবিলম্বে হাটহাজারী মাদরাসা থেকে মাওলানা আনাসকে বহিষ্কার করতে হবে। বর্তমান নিয়মে এটা কার্যকর করার ক্ষমতা মাদরাসার মজলিসে ইলমীর শিক্ষকগণের রয়েছে। তাই কোন অজুহাত আমরা শুনতে চাই না।

২। মাওলানা আনাস কর্তৃক অবৈধভাবে অব্যহতি দেওয়া তিনজন সম্মানিত শিক্ষককে পুনর্বহাল করতে হবে।
৩। মাওলানা আনাস কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত সকল অযোগ্য এবং বদ আখলাকের শিক্ষক ও স্টাফকে ছাটাই করতে হবে।
৪। ছাত্রদের ওপর সব ধরনের জুলুম ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

৫। আল্লামা আহমদ শফি সাহেব মা’যুর হওয়ায় তাঁকে কার্যকরী মুহতামীম থেকে সম্মানজনকভাবে অব্যাহতি দিয়ে একজন মুখলিস, বুযুর্গ ও দক্ষ আলেমকে মুহতামীম নিয়োগ দিতে হবে। যদি তা না পারেন তাহলে মজলিসে শূরার মাধ্যমে মাদরাসা পরিচালনা করতে হবে।

৬। মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস,নুরুল আমীন ও আবুল কাসেম ফেনীসহ বিতর্কিত কেউ শূরায় থাকতে পারবে না। সারাদেশের হক্কানী, মুখলিস আলেমগণের সমন্বয়ে শূরা পুনঃগঠন করতে হবে।

দাবিসমূহে আরো উল্লেখ করা হয়, সর্বোপরি হাটহাজারী মাদরাসার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার লক্ষে আমাদের আমাদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ক্লাস ও পরীক্ষাসহ একাডেমিক সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এর জন্য জেল-জুলুম সহ জীবনবাজি রেখে আমরা লড়াইয়ের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছি, ইন-শা আল্লাহ।