আবারও উত্তাল হাটহাজারী মাদরাসা; আজকের মধ্যে শুরা বৈঠকের দাবি

গতকাল দুইটি দাবি মেনে নেওয়ার পর খানিকটা শান্ত হলেও আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের প্রাচীনতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা।

আল্লামা শফী পুত্র মাওলানা আনাস মাদানিকে বহিষ্কার ও ছাত্রদের হয়রানি না করার দাবি দুটি মানার পর গত রাতে কিছুটা শান্ত হয়েছিল হাটহাজারী মাদরাসার পরিবেশ। তবে আজ মাদরাসা বন্ধের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ এনে আবারও মাঠে নেমেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, আজকের মধ্যে মজলিসে শূরার বৈঠক বসে বাকি তিনটি দাবি মেনে নিতে হবে। দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত মাঠ ছাড়বে না বলে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৬দফা দাবিগুলো হলো,

১। অবিলম্বে হাটহাজারী মাদরাসা থেকে মাওলানা আনাসকে বহিষ্কার করতে হবে। বর্তমান নিয়মে এটা কার্যকর করার ক্ষমতা মাদরাসার মজলিসে ইলমীর শিক্ষকগণের রয়েছে। তাই কোন অজুহাত আমরা শুনতে চাই না।

২। মাওলানা আনাস কর্তৃক অবৈধভাবে অব্যহতি দেওয়া তিনজন সম্মানিত শিক্ষককে পুনর্বহাল করতে হবে।
৩। মাওলানা আনাস কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত সকল অযোগ্য এবং বদ আখলাকের শিক্ষক ও স্টাফকে ছাটাই করতে হবে।
৪। ছাত্রদের ওপর সব ধরনের জুলুম ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

৫। আল্লামা আহমদ শফি সাহেব মা’যুর হওয়ায় তাঁকে কার্যকরী মুহতামীম থেকে সম্মানজনকভাবে অব্যাহতি দিয়ে একজন মুখলিস, বুযুর্গ ও দক্ষ আলেমকে মুহতামীম নিয়োগ দিতে হবে। যদি তা না পারেন তাহলে মজলিসে শূরার মাধ্যমে মাদরাসা পরিচালনা করতে হবে।

৬। মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস,নুরুল আমীন ও আবুল কাসেম ফেনীসহ বিতর্কিত কেউ শূরায় থাকতে পারবে না। সারাদেশের হক্কানী, মুখলিস আলেমগণের সমন্বয়ে শূরা পুনঃগঠন করতে হবে।

দাবিসমূহে আরো উল্লেখ করা হয়, সর্বোপরি হাটহাজারী মাদরাসার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার লক্ষে আমাদের আমাদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ক্লাস ও পরীক্ষাসহ একাডেমিক সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এর জন্য জেল-জুলুম সহ জীবনবাজি রেখে আমরা লড়াইয়ের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুত রয়েছি, ইন-শা আল্লাহ।