মুসলিম ছাত্রনেতা উমর খালিদকে ১০ দিনের রিমান্ড দিয়েছে ভারতের আদালত

মুসলিমবিরোধী নাগরিকত্ব আইন সিএএ-র প্রতিবাদ করায় ভারতের ছাত্রনেতা উমর খালিদকে ১০ দিনের রিমান্ড দিয়েছে দেশটির আদালত।

দিল্লিতে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুসলিমবিরোধী সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা ওই মামলায় উমরকে একজন ‘গুরুত্বপূর্ণ ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তবে মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজ বলছে, একজন মুসলিম হিসেবে অন্যায়ভাবে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন উমর।

ফেব্রুয়ারির ওই সহিংসতা ছিল ভারতের মুসলিমবিরোধী বিতর্কিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে। টানা তিন দিনের উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের ওই মুসলিমবিরোধী সহিংসতায় অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হন। দুই দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর খালিদকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভিডিও লিংকের মাধ্যমে উমরকে দিল্লির আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অতিরিক্ত দায়রা জজ অমিতাভ রাওয়াত বলেন, এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য আদালতে তুলে ধরা হয়েছে। তার দাবি, প্রযুক্তিগত ডেটা ও অন্যান্য বিষয়গুলোর মুখোমুখি হতে তার ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুরের প্রয়োজন রয়েছে। রিমান্ড শেষে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

দিল্লির স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর অমিত প্রাসাদ জানান, উমর খালিদের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তার ফোন থেকে ৪০ জিবি ডেটা বের করা হয়েছে। উমর খালিদ অবশ্য শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, দিল্লির মুসলিমবিরোধী ওই সহিংসতার ঘটনায় অনেক অ্যাক্টিভিস্ট বিশেষ করে মুসলিমদের অন্যায়ভাবে টার্গেট করা হচ্ছে।

বেশ কয়েকজন ভারতীয় অ্যাক্টিভিস্ট ও শিক্ষাবিদ খালিদের গ্রেফতারের ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছে রবি কিরন জৈন, ভি সুরেশ, আইনজীবী মিহির দেশাই, এনডি পাঞ্চলি, শিক্ষাবিদ সতিশ দেশপান্ডে, ম্যারি জন, অপূর্বানন্দ, নন্দিনী সুন্দর, সুদ্ধব্রত সেনগুপ্ত, মানবাধিকারকর্মী আকার প্যাটেল, মানডের, ফারাহ নাকবি ও বিরাজ পাটনায়েক।

এর আগে ২০১৬ সালে উমর খালিদকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার সঙ্গে ভারতবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার কয় কানহাইয়া কুমারকেও। উভয়েই অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং জামিনে মুক্তি পান।

সূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস