আফগানিস্তানে রাশিয়ার আগ্রাসন | তালেবানদের উত্থানের পটভূমি (পর্ব-তিন)

শের মুহাম্মাদ


আমরা আফগানে সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের পেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। দেশটিতে রাশিয়া কেন অনুপ্রবেশ করলো এবং কীভাবে তার পেক্ষাপট রচিত হলো, সে আলাপে কতিপয় ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর নাম বারবার এসেছে। এই গোষ্ঠী সর্বতোভাবে কমিউনিস্ট রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। আফগানে রাশিয়ার আগ্রাসনের যুক্তি ও পটভূমি তাদের হাতেই রচিত হয়েছিল। এ ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর রাজনৈতিক উচ্চাভিলাস ছিলো। খালক ও পারচাম ( এ নামে পরে কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে উঠেছিল) পত্রিকাদ্বয়ের মাধ্যমে সে রাজনৈতিক উচ্চাভিলাসের পিছনে একটি দার্শনিক মতবাদ পরিপুষ্ট হয়ে ওঠে। এ দার্শনিকতা একটি নতুন নীতি বোধ তৈরি করে, যা ইসলামের নীতি-বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক ছিলো। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেল, ইসলাম যাকে নীতিনিষ্ঠ মনে করে, তাকে নীতিবিরুদ্ধ মনে করছে তারা, আবার যে বিষয়টি ইসলাম নীতিবিরুদ্ধ মনে করে, সে বিষয়কে তারা ভালো জ্ঞান করছে। এভাবে নিছক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একটি আদর্শিক দ্বন্ধ তৈরি করা হয়। এ অবস্থা তৈরিতে যে সমস্ত ব্যক্তির ভূমিকা ছিলো, এ পর্বে তাদের ব্যাপারে কিছু আলোচনা রাখা হল।
                     আফগানের শেষ বাদশাহ জহির শাহ



আফগানিস্তানের শেষ বাদশাহ জহির শাহ। ১৬ অক্টোবর’ ১৯১৪ সালে তিনি কাবুলে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা বাদশাহ নাদির শাহ গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছিলেন তার চোখের সামনেই। পিতার মৃত্যুর পর মাত্র ১৯ বছর বয়সে আফগান বাদশাহ হিসেবে তার অভিষেক ঘটে। দিনটি ছিলো ১৯৩৩ সালের ৮ নভেম্বর।
জহির শাহর পড়াশোনা ফ্রান্সে। ১৯৭৩ সালে অবকাশ যাপনের জন্য তিনি যখন ইতালি যান, সেসময় তার সরকারের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী দাউদ খান অভ্যুত্থান ঘটায়। এ অভ্যুত্থানে জহির শাহের পতন হলে দীর্ঘ ২৯ বছর তাকে ইতালিতে নির্বাসিত জীবন যাপন করতে হয়।
তার পতনের পরে আফগানের রাজনীতিতে রাশিয়ার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রত্যক্ষ হয়ে ওঠে। দেশটির পরাধীনতার যাত্রা এখান থেকেই সূচিত হয়। তবে নেতৃত্বে পরাধীনতার সূচনা হয় আরো বহু আগে আমীর আমানউল্লাহর শাসনামলে। কামাল আতাতুর্কের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আফগানে সেক্যুলার ধ্যান ধারণা আমদানি করেছিলেন তিনি। ফলে একটি রক্ষণশীল মুসলিম সমাজে অহেতুক চিন্তার দ্বান্দ্বিকতা তৈরি হয়। বিংশ শতকে মুসলিম বিশ্বের সকল রাজনৈতিক ট্রাজেডি ইসলামের বিরুদ্ধে সেক্যুলারিজমের চিন্তা, রাজনৈতিক উচ্চাশা ও ক্ষমতার প্রতিযোগিতাই দায়ী। আর ইউরোপীয় শিক্ষায়তনে বেড়ে ওঠা মুসলিমদের একটি অংশ সেক্যুলার মতাদর্শ লালনের নামে মূলত সাম্রাজ্যবাদীদের সহায়ক হিসেবেই ভূমিকা রেখেছিলো।
আমরা কথা বলছিলাম সেক্যুলারিজমের পটভূমিতে আফগানের ধ্বংসের পেক্ষাপট নিয়ে। এ পেক্ষাপট রচনায় জহির শাহের অবস্থানও কম শক্তিশালী ছিল না। তিনি ছিলেন চিন্তা চেতনায় মধ্যমপন্থী সেক্যুলার। ফলে তার শাসনামলে সেক্যুলারিজম ও কমিউনিজমের আড়ালে দেশবিরোধী বিভিন্ন ততপরতা বেড়ে ওঠার সুযোগ পায়। এসময় গড়ে ওঠে পিডিপিএ-র মত রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত কমিউনিস্ট পার্টি। এছাড়া দেশটিতে ইসলামী মূল্যবোধ বিরোধী বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম গড়ে ওঠে। তবুও জহির শাহের মত মধ্যমপন্থী সেক্যুলার শাসকে রাশিয়ার মন ভর ছিলো না। তাদের প্রয়োজন আরো কট্টর শাসকের। তাই জহির শাহকে সরিয়ে দেওয়ার আয়োজন চলতে থাকে। এ আয়োজনে ৪০ বছর শাসনের ইতি টানতে বাধ্য হন তিনি।
আফগানিস্তানের ঐতিহ্যিক প্রথামত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিভিন্ন গোত্রীয় নেতাদের সর্বোচ্চ পরিষদের অধিবেশন বসে। একে স্থানীয় ভাষায় লয়া জিরগা বলা হয়। ২০০২ এর এপ্রিলে লয়া জিরগার সভাপতিত্ব করতে আমেরিকা নিয়ন্ত্রিত আফগান প্রশাসন জহির শাহকে আমন্ত্রণ জানায়। তার সহযোগিতাতে মার্কিন পাপেট খ্যাত হামিদ কারজাই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। দেশে ফেরার পর জহির শাহকে আফগান ‘‘জাতির পিতা” উপাধি দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে ২০০৭ সালের ২৩ এপ্রিল ৯২ বছর বয়সে তিনি কাবুলে মৃত্যু বরণ করেন। রাজধানী কাবুলেই তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।


আফগান রাজনীতিতে দাউদ খান



জহির শাহর বিরুদ্ধে ঘটা অভ্যুত্থানে দাউদ খানকে সহযোগিতা করে পারচাম পার্টি সমর্থক ক্যান্টনমেন্টের কিছু সেনা সদস্য। একেবারেই সাধারণ ধরণের অভ্যুত্থান ছিল এটি। তবে কমিউনিস্টদের কাছে এ অভ্যুত্থানের রাশভারি নাম “ছাওর বিপ্লব”।
দাউদ খান রাজপরিবারের একজন সদস্য হওয়া সত্বেও অভ্যুত্থানের পর আফগানের রাজতন্ত্র বিলোপ করে প্রেসিডেন্ট পদ তৈরি করেন। এ কারণে তাকে দেশটির প্রথম প্রেসিডেন্ট (১৯৭৩-১৯৭৮) মনে করা হয়।
পূর্বেই বলা হয়েছে পিডিপিএ-র দু’টি অংশের মধ্যে পারচাম দাউদ খানের ঘনিষ্ঠ ছিলো। তাদের সমর্থক সৈন্যদের সাহায্যে দাউদ খান ক্ষমতা দখল করেছিলেন। ফলে পিডিপিএ-র অন্য অংশ খালক পার্টির সাথে দাউদের স্বাভাবিকভাবে দূরত্ব তৈরি হয়। কিন্তু ঘটনাক্রমে ১৯৭৭ সালে কমিউনিস্ট পার্টির দুটি অংশ নিজেদের ভিতর আপোস করে নেয় এবং তৃণমূলের শক্তিশালী সমর্থন থাকায় সেনা বাহিনীতে খালকের প্রতি সমর্থন বাড়তে থাকে। বিষয়টি দাউদ খানকে বিচলিত করে তোলে। এরই মধ্যে ১৯৭৮ সালের ১৭ এপ্রিল পারচাম পার্টির উপদেষ্টা এবং পারচাম পত্রিকার সম্পাদক মীর আকবার খাইবার অজ্ঞাত আততায়ীদের হাতে কাবুলে নিহত হন। দাউদ খান দাবী করেন হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে হেকমতিয়ারের নেতৃত্বাধীন হিজবে ইসলামী। কিন্তু খালক পার্টির প্রধান নূর মুহাম্মাদ তারাকি এ হত্যাকাণ্ডের জন্য স্বয়ং দাউদ খানকেই দায়ী করেন। বিশেষ করে এ ঘটনাটি খালকের জন্য দাউদ খানের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের বিরাট অজুহাত তৈরি করে। ১৯ তারিখে আকবার খাইবারের জানাজা শেষে পিডিপিএ-র প্রায় ত্রিশ হাজার সদস্য আমেরিকার দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করে। এ বিক্ষোভের জেরে তারাকি, হাফিজুল্লাহ আমিনসহ পিডিপিএ-র উভয় অংশের প্রভাবশালী লিডারদের গ্রেফতার করে দাউদ খান সরকার। ফলে আফগানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তেজনার তুঙ্গে পৌঁছে যায়। রাজনৈতিক এমন ডামাডোলের মধ্যে হত্যার ঠিক দশদিন পর ২৮ এপ্রিল দাউদ খানের বিরুদ্ধে খালক পার্টির সদস্যরা অভ্যুত্থান করে বসে। তাদের হাতে দাউদ খান সপরিবারে নিহত হন।
পাকিস্তান কী কারণে দাউদ খানের আমল থেকে আফগানের ইসলামপন্থীদের সহায়তা করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছিল, তা বোঝার জন্য এখানে ছোট্ট তথ্য দিয়ে রাখি। দাউদ খান পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশকে আফগানিস্তানের বলে দাবি করে বসেন। ওই প্রদেশের পশতুন এবং বালুচ জনগোষ্ঠীর কিছু লোককে দেশটির বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এমনকি পাকিস্তান পিপলস পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান হায়াত মুহাম্মাদ খান শেরপাওকে হত্যার পিছনেও দাউদের হাত আছে বলে মনে করা হয়। শেরপাও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টোর অত্যন্ত ঘনিষ্ট সহকর্মী ছিলেন। এ অবস্থায় সম্পর্কের টানাপোড়া শুরু হয় দুদেশের মধ্যে।
আফগানিস্তানে দাউদ সরকারের চাপিয়ে দেওয়া ইসলাম বিরোধী মতবাদগুলোর বিরুদ্ধে যখন ইসলামপন্থীদের আন্দোলন দাঁড়াচ্ছিলো, সেখানে গোপন সহায়তার প্রস্তাব করে পাকিস্তান। পাকিস্তানের এ আগ্রহের পিছনে দাউদ খানের উপরোক্ত কর্মকাণ্ডের মূখ্য ভূমিকা রয়েছে। সেসময় হেকমতিয়ারের নেতৃত্বাধীন হিজবে ইসলামিকে প্রভূত সামরিক সহায়তা করে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই।


নূর মুহাম্মাদ তারাকি



প্রেসিডেন্ট দাউদ খানকে হত্যার মাধ্যমে অভ্যুত্থানকারীরা একটি বিপ্লবী কাউন্সিল গঠন করে। এ বিপ্লবী কাউন্সিল ১৯৭৮ সালের ৩০ এপ্রিল নুর মুহাম্মাদ তারাকিকে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদে মনোনীত করে। ১৯৭৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি স্বপদে বহাল ছিলেন। হাফিজুল্লাহ হন তারাকির সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে তার সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। কমিউনিজমের স্বেচ্ছাচারিতা, মানুষের স্বাধীনতা হরণ এবং জুলুম নির্যাতনের একটি জ্বলন্ত অধ্যায় তারাকির শাসনামল। মাত্র দেড় বছরের শাসনামলে তারাকি এবং হাফিজুল্লাহ শুধুমাত্র কমিউনিজমের বিরুদ্ধে মত লালনের অভিযোগে প্রায় ২৭ হাজার আফগানীকে হত্যা করে। এমনকি, রাশিয়া পর্যন্ত তাদের এ কর্মকাণ্ডকে “বাড়াবাড়ি পর্যায়ের” বলে সতর্ক করতে বাধ্য হয়। তারাকির বর্বরতা দ্রুতই তাকে অজনপ্রিয় করে তোলে।(সব মুসলিম দেশেই কমিউনিস্টরা অজনপ্রিয় এবং বিদেশী শত্রুর ক্রীড়নক ছিলো) এ পরিস্থিতি হাফিজুল্লাহর জন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়। প্রেসিডেন্ট পদের জন্য সে তারাকিকে অযোগ্য বলে ঘোষণা করে এবং এক পর্যায়ে তাকে অবসরে যেতে বাধ্য করে। এর চব্বিশ দিন পর অক্টোবরের ৮ তারিখ দীর্ঘদিনের ‘বিশ্বস্ত’ সহচর! ‘বিপ্লবী কমরেড’ হাফিজুল্লাহ আমিনের নির্দেশে নুর মুহাম্মাদ তারাকি নিহত হন। এরপর তারাকির বিধবা স্ত্রীসহ তার পরিবারের বাকী ২৮ সদস্যকে জেলে বন্দী করে রাখা হয়। তারাকির নিহতের এই ঘটনা আফগানিস্তানে রাশিয়ার অনুপ্রবেশের অন্যতম একটি কারণ।
এ পর্যায়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা জানা যাক। যে ঘটনা আমেরিকার সঙ্গে আফগান ও সোভিয়েতের সম্পর্ক মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটায়। ১৯৭৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ্যডলফ ডাবস অপহৃত হন।(একই দিনে ইরানে অবস্থিত মার্কিন এমব্যাসিতেও হামলা হয়) আমেরিকান কালচারাল সেন্টারে যাওয়ার পথে তার বুলেটপ্রুফ লিমোজিন গাড়ীসহ আফগান পুলিশের পোষাক পড়া চারজন বন্দুকধারী তাকে অপহরণ করে হোটেল সেরেনার ১১৭ নম্বর কক্ষে নিয়ে যায়। অপহরণ কারীরা আফগান সরকারের হাতে আটক তাহির বাদাখশি, বদরুদ্দিন বাহেস এবং ওয়াসিফ বুখতারির মুক্তির দাবি জানান। কমিউনিস্টবাদী সংগঠন সেত্তামে মিল্লিকে অপহরণের ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত বলে সন্দেহ করা হয়। বদরুদ্দীন বাহেস তাদের নেতা ছিলেন। অপহরণকারীদের দাবি মেনে নিয়ে রাষ্ট্রদূতের জীবন বাঁচানোর জন্য আফগান প্রশাসনের প্রতি আহবান জানায় আমেরিকা। কিন্তু রাশিয়ার পরামর্শে অপহরণকারীদের সাথে কোনো রকম আলোচনায় যাওয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দেয় তারাকির প্রশাসন। আলোচনার সব প্রস্তাব ব্যর্থ হলে অপহরণকারীরা পয়েন্ট ব্লাংক রেন্জে মাথায় গুলি করে হত্যা করে এ্যডলফ ডাবসকে। রাষ্ট্রদূত হত্যার ঘটনা সোভিয়েত নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানের সাথে আমেরিকার সম্পর্ককে চূড়ান্ত তিক্ততায় পৌঁছে দেয়। চার অপহরণকারীর একজন বাবরাক কারমালের পারচাম পার্টির সাথে সম্পৃক্ত ছিল। তাই এর পিছনে বাবরাক কারমালের ইন্ধন ছিল বলে আমেরিকা সন্দেহ করে। কিন্তু আফগান প্রধানমন্ত্রী হাফিজুল্লাহ আমিন আমেরিকার রাষ্ট্রদূতকে হত্যার জন্য খোদ আমেরিকাকেই দায়ী করেন। এ টুকরো বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ধীরে ধীরে আফগানিস্তানের রাজনীতিতে সব পক্ষকে একটি চূড়ান্ত অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেয়।


হাফিজুল্লাহ আমিন



হাফিজুল্লাহ আমিন দীর্ঘ দিনের অন্তরঙ্গ সহকর্মী তারাকিকে পদচ্যুত করে আফগানের প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট এবং খালক পার্টির প্রধান দাবি করে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদই দখল করে নেন। তবে তার শেষ রক্ষা হলো না। মাত্র তিন মাস ক্ষমতায় থাকতে পেরেছিলেন তিনি। ক্ষমতার মোহে রাশিয়ার সাথে মৈত্রীচুক্তির মাধ্যমে তারা যে খাল কেটেছিলেন, সে খালের কুমিরেই তাদের ধ্বংস বয়ে আনে। ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৯ রাশিয়ার সৈন্যরা আফগানে অনুপ্রবেশ করে এবং ২৭ ডিসেম্বর সপরিবারে তাকে হত্যা করে। এমনকি তার লাশও গুম করে রুশ বাহিনী। এভাবেই আফগানের রাজনীতিতে হাফিজুল্লাহ অধ্যায়ের করুণ সমাপ্তি ঘটে।


বাবরাক কারমাল



বাবরাক কারমাল আফগানিস্তানের রাজধানী শহর কাবুলে বসবাসরত তাজিক বংশোদ্ভূত ধনী ও প্রভাবশালী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পরিণত বয়সে বাম তাত্ত্বিক গুরু মীর আকবার খাইবারের মাধ্যমে কমিউনিজমে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। আফগানে রাশিয়ার পোষ্য সবচেয়ে বিশ্বাসভাজন যেকজন বাম নেতা ছিলেন, তাদের অন্যতম বাবরাক কারমাল। কট্টর কমিউনিস্ট মতাদর্শী হওয়ার কারণে কমিউনিজমের দুই প্রধান ব্যক্তি কার্ল মাক্স এবং লেলিনের নাম মিলিয়ে তাকে ‘কারমাল’ বলা হতো। ১৯৭৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর আফগান দখলের পর রাশিয়া বাবরাক কারমালকে দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে বসিয়ে দেয়। ১৯৮৬ সালের ৪ মে পর্যন্ত তিনি এই পদে থেকে রাশিয়ার পুতুল হিসেবে ভূমিকা পালন করেন। এ বছর কারমালকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার জায়গায় বসানো হয় ডক্টর নজিবুল্লাহকে। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বাকি জীবন তিনি নিরুপদ্রবে মস্কোয় কাটিয়ে দেন। অবশেষে ১৯৯৬ সালে ‘প্রিয়’ শহর মস্কোয় ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান বাবরাক কারমাল।
 চলবে 
তালেবানদের উত্থানের পটভূমি (পর্ব-এক)
তালেবানদের উত্থানের পটভূমি (পর্ব-দুই)