বাংলাদেশি নাগরিকের মাথা পিছু বৈদেশিক ঋণের বোঝা ২৯,৩৮১ টাকা

বাংলাদেশে বিগত এক দশকে বৈদেশিক ঋণের বোঝা বেড়েছে ১২৫ শতাংশের বেশি। বিশ্বব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত এক প্রতিবেনে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এ হিসেবে গত একদশকে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথা পিছু বৈদেশিক ঋণের বোঝা বেড়েছে ২৯,৩৮১ টাকা।

বাংলাদেশের চলতি বছরের হালনাগাদ পরিসংখ্যান ধরলে এই ঋণের পরিমাণ আরো বেশি হবে। ইতোমধ্যে করোনা অতিমারির প্রভাবে সরকারিভাবে বিদেশি উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ আরো বেড়েছে।

‘আন্তর্জাতিক ঋণ পরিসংখ্যান-২০২১’ শিরোনামে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ স্বল্প ও মধ্য আয়ের ১২০টি দেশের বৈদেশিক ঋণ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। এ প্রতিবেদনে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পরিসংখ্যান অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে বিগত এক দশকে গোটা বিশ্বের বৈদেশিক দেনার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বিশ্বব্যাংকের হিসেবে, ২০০৯ সালে বাংলাদেশের সর্বমোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ২৫৩৭ কোটি ২০ লাখ ডলার যা টাকার অংকে ২ লাখ ১৫ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে এর স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫৭০৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ৪ লাখ ৮৫ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই এক দশকে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা বা ১২৫ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের স্থিতি হিসাবে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৫৭০৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারের ঋণের মধ্যে সরকারি ঋণ ৪১০৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আইএমএফের ঋণ রয়েছে ১৪১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

প্রতিবেদনে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই), বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণসহ বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, বাংলাদেশের তুলনামূলক দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণই বেশি। ২০১৯ সালে এফডিআই এসেছে ১৩৭ কোটি ১০ লাখ ডলার সমপরিমাণ। দীর্ঘমেয়াদি ঋণের স্থিতি ৪৫৯৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার। বেসরকারি খাতে ঋণ মাত্র ৪৯০ কোটি ১০ লাখ ডলার।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রস ন্যাশনাল ইনকাম (জিএনআই)-এর তুলনায় বিদেশি ঋণের অনুপাত এখনো ঝুঁকি মাত্রার নিচে রয়েছে। এজন্য ঋণের আকার বাড়লেও অর্থনীতির সক্ষমতা বিবেচনায় এটি বেশি নয়। ঋণ বৃদ্ধি সত্বেও গত তিন বছর ধরে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ জিএনআই-এর ১৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে অন্যান্য দেশের বিদেশি ঋণ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, করোনার প্রভাবে উন্নয়নশীল বিশ্বে ঋণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগের। দরিদ্র দেশগুলোর নতুন শর্তযুক্ত ঋণ গ্রহণ, সুদের হার এবং স্বচ্ছতার বিষয়গুলো নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। কোভিডের আগেই দরিদ্র দেশগুলোর ঋণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ ছিল। প্রতিবেদনের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘমেয়াদে ঋণের স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে ঋণ ও বিনিয়োগ স্বচ্ছতার ওপর। এখন সময় এসেছে দরিদ্র দেশগুলোর ঋণ সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার।