সুদানকে সন্ত্রাসে মদদদাতা দেশের তালিকা থেকে সরানো হবে: ট্রাম্প

সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা দেশের তালিকা থেকে সুদানকে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি লেখেন, অভাবনীয় উন্নতি করা সুদানের নতুন সরকার সন্ত্রাসের শিকার মার্কিন নাগরিক ও তাদের পরিবারগুলোর জন্য ৩৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধে রাজি হয়েছে। একবার জমা হয়ে গেলেই আমি সুদানকে সন্ত্রাসে মদদ দাতা দেশের তালিকা থেকে সরিয়ে নেবো। দীর্ঘকাল পর অবশেষে মার্কিন নাগরিকেরা ন্যায়বিচার পাচ্ছে আর সুদানের জন্য বড় পদক্ষেপ।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক টুইট বার্তায় তিনি এসব কথা বলেছেন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, খার্তুমের সরকার হামলার শিকারদের ক্ষতিপূরণ পরিশোধে রাজি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুদানের নতুন অন্তবর্তীকালীন সরকার মনে করে আমেরিকার এই তালিকা থেকে বাদ পড়লে বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়ার সুযোগ বাড়বে আর এতে দেশটির অর্থনীতির উন্নতি হবে।

দীর্ঘ দিনের শাসক ওমর আল বশির ক্ষমতায় থাকার সময়ে ১৯৯৩ সালে সুদানকে সন্ত্রাসবাদে মদদ দাতা দেশের তালিকায় যোগ করে আমেরিকা। আমেরিকার ওই তালিকা ভুক্ত হওয়ায় সুদান কৌশলগতভাবে ঋণ মওকুফ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে জরুরি অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে।

বিক্ষোভের জেরে সেনা হস্তক্ষেপে গত বছরের আগস্টে ওমর আল বশির নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর সুদানের ক্ষমতায় আসে একটি অন্তবর্তীকালীন সরকার। ওই সরকার দায়িত্ব নিয়েই আমেরিকার সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা দেশগুলোর তালিকা থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়াকে শীর্ষ অগ্রাধিকার তালিকায় নিয়ে আসে।

তবে এই তালিকা থেকে সরে দাড়াতে চাইলে আমেরিকার এক অযৌক্তিক দাবি নিয়ে আসে সুদানের কাছে। তারা ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিতে কঠোর চাপ প্রয়োগ করে। তবে আমেরিকার মুখে চপেটাঘাত করে সুদান সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের দায় থেকে মুক্তির জন্য তারা ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিবে না।