‘দোলাইপাড়ে ভাস্কর্যের পরিবর্তে আল্লাহর ৯৯ নাম অঙ্কিত ‘মুজিব মিনার’ স্থাপন করুন’

রাজধানীর দোলাইপাড় চৌরাস্তায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মিত হচ্ছে। তবে ভাস্কর্য এর পরিবর্তে বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফিরাত কামনায় আল্লাহ তায়ালার ৯৯ নাম অঙ্কিত ‘মুজিব মিনার’ স্থাপনের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ ইমাম মুসল্লি ঐক্য পরিষদ।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বরাবর এই স্মারকলিপি প্রেরণ করেন।

প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি মাওলানা মুর্শিদুল আলম ও সেক্রেটারি মাওলানা হারুনুর রশীদ। উপস্থিত ছিলেন, মুফতী শফিক সাদী, মাওলানা আনোয়ার হামিদী ও মুফতী রুহুল আমিন।

স্বারকলিপিতে বলা হয়েছে, সরকারের অর্জনসমূহ কিছু সংখ্যক স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতায় ব্যাহত হচ্ছে। ধর্মীয় মূল্যবোধের দিক থেকে ৯৫ ভাগ মুসলমানের দেশে মসজিদের শহর ঢাকাকে ভাস্কর্যের নামে মূর্তির শহরে পরিণত করা হচ্ছে। যা প্রধানমন্ত্রীরও অপছন্দনীয়। প্রধানমন্ত্রী নিজেও ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। রাজধানীর দোলাইপাড় চৌরাস্তায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের নামে মূর্তি নির্মাণ নয়; মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের রূহের মাগফিরাত কামনায় আল্লাহ’র পবিত্র ৯৯ নাম সম্বলিত মুজিব মিনার স্থাপন করুন।

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, ইতিমধ্যে আমরা জানতে পেরেছি যাত্রাবাড়ি-শ্যামপুর থানাধীন ঢাকা-মাওয়া-খুলনা হাইওয়ে রোড দোলাইপাড় চত্বরে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় স্বাধীনতার স্থপতি মরহুম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর রূহের মাগফিরাত কামনায় সদকায়ে জারিয়া হিসেবে উক্ত স্থানে বাংলা উচ্চারণসহ আল্লাহর পবিত্র ৯৯ নাম অঙ্কিত ‘মুজিব মিনার’ স্থাপন করা হোক। বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি আপনার পিতা মরহুম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি।

যার অবদান ভোলার মতো নয়। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আপনি জননেত্রী বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা হিসেবে বর্তমানে বাংলাদেশের উন্নয়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, যা প্রশংসাযোগ্য। আপনার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ দেশ ও জনগণের কল্যাণ বয়ে আনছে, যা দৃশ্যমান। দোলাইপাড় চত্বরের লাগোয়া পূর্ব পাশে বাইতুশ শরফ জামে মসজিদ, উত্তর-পশ্চিম কোণে আবেদ আলী মসজিদ মাদরাসা এবং দক্ষিন-পূর্ব পাশে মোহাম্মদিয়া মসজিদ মাদরাসা। এতগুলো মসজিদ মাদরাসার মাঝখানে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন করা সমীচীন হবে না। আপনি অবগত আছেন যে, কাকরাইল মসজিদের জন্য জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে আপনার পিতা স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, পার্কের সৌন্দর্যের চেয়ে মসজিদের সৌন্দর্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই তিনি পার্কের অংশবিশেষ জমি মসজিদের নামে বরাদ্দ দিয়েছিলেন।

এতে আরো বলা হয়, ধর্মপ্রাণ জনসাধারণের প্রাণের দাবি দোলাইপারে মূর্তির পরিবর্তে ভারতের কুতুব মিনারের ন্যায় আল্লাহ’র ৯৯ নাম সম্বলিত মুজিব মিনার স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।