ইসলাম বিদ্বেষীদের পক্ষে সাফাই গাচ্ছে মাক্রোঁন

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্রান্সে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে দেশটিতে মুসলমানদের ওপর চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসাবে ফ্রান্স সরকার উগ্রপন্থী তৎপরতার অভিযোগ এনে ২৩১ জন বিদেশী নাগরিককে সেদেশ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লামকে ক্লাসে অবমাননা করার কারণে ১৮ বছর বয়সি একজন চেচেন যুবকের হাতে ফ্রান্সের এক ইসলামবিদ্বেষী শিক্ষক নিহত হওয়ার পর দেশটির সরকার তথাকথিত উগ্রপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে ২৩১ জন নাগরিককে বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

ইউরোপে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মুসলমান বাস করে ফ্রান্সে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ওই দেশটিতে ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী প্রচার সবচেয়ে বেশি এবং প্রায়ই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম এর প্রতি অবমাননার ঘটনা ঘটছে। উদাহরণ স্বরূপ স্যামুয়েল প্যাটি নামে এক শিক্ষক ক্লাসে তার এক ছাত্রের হাতে নিহত হন। ওই শিক্ষক শার্লি এবদো ম্যাগাজিনে প্রকাশিত বিশ্বনবীকে নিয়ে ব্যাঙ্গ কার্টুন ক্লাসে ছাত্রদেরকে প্রদর্শন করে। এর প্রতিবাদে ওই ছাত্র শিক্ষককে হত্যা করে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁন এ ঘটনাকে ইসলামপন্থীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেছেন, বাক স্বাধীনতার পক্ষে শিক্ষা দেওয়ার কারণেই ৪৭ বছর বয়সী ওই শিক্ষককে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এমন সময় ধর্মের প্রতি অবমাননাকে বাক স্বাধীনতা হিসেবে অভিহিত করলেন যখন এ দেশটি কথিত ইহুদি নিধনযজ্ঞ হলোকাস্টের ঘটনা নিয়ে আপত্তি জানানো বা এটাকে অস্বীকার করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। শার্লি এবদো ম্যাগাজিনে ইসলাম অবমাননার ঘটনাকে মাক্রোঁন এমন সময় বাক স্বাধীনতা বলে দাবি করলেন যখন আন্তর্জাতিক আইন ও বাক স্বাধীনতার ব্যাখ্যায় কোনো ধর্ম বিশ্বাসের প্রতি অবমাননা করাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁন ও ফরাসি সরকার ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিশেষ করে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম এর বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ার পরিবর্তে উল্টো বাক স্বাধীনতার দোহায় দিয়ে অপরাধীদের সমর্থন দেওয়ায় ইসলাম বিদ্বেষীরা আরো বেশি উৎসাহী হচ্ছে। যার ফলে মুসলমানদের পক্ষ থেকেও পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসছে।

সূত্র: পার্সটুডে