রাজধানীতে কুরবানীর পশুর হাট বসানোর দাবিতে সরকারকে আইনি নোটিশ

রাজধানীতে কুরবানীর পশুর হাট বসানোর দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবকে একটি আইনি নেটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ঢাকার বাসিন্দা ও মোহাম্মদপুর তাজ জামে মসজিদের খতিব খন্দকার মুহাম্মাদ জালাল উদ্দিনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ এই নোটিশ পাঠিয়েছেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, সাংবিধানিকভাবে যেহেতু বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, সুতরাং ইসলামী আকিদাগুলো রাষ্ট্র দ্বারা সুরক্ষিত। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে: ‘আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা-সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের যে কোনও ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রয়েছে।’ তাই সুষ্ঠুভাবে কুরবানীর পশু কিনতে পারা ও পশু কুরবানী করতে পারা বাংলাদেশের প্রত্যেক মুসলিমের সাংবিধানিক অধিকার। অথচ আপনাদের (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) সিদ্ধান্ত রাজধানীর মুসলিমদেরকে তাদের সাংবিধানিক অধিকার পালনে বাধা সৃষ্টি করছে।

এতে আরও বলা হয়, গত ১২ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সংক্রান্ত এক সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে এই বছর রাজধানীতে কুরবানীর পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। যদিও পবিত্র ঈদুল আযহা মুসলমানদের একটি দ্বীনি উৎসব এবং পশু কুরবানী একটি ইবাদত। ঈদুল আযহায় সাধ্যমতো পশু কুরবানী করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের একটি ওয়াজিব (বাধ্যতামূলক) আমল।

আইনি নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, তাই তথাকথিত করোনাভাইরাস সংক্রমণের সঙ্গে পশু কুরবানী করা, কিংবা কুরবানীর পশুর কোনও সম্পর্ক নেই। সরকার ইতোমধ্যে সারা দেশে ‘সাধারণ ছুটি’র মাধ্যমে ঘোষিত কথিত লকডাউনও অনেকটাই তুলে নিয়েছে।

উক্ত নোটিশে বলা আরও বলা হয়েছে যে, নোটিশ পাওয়ার দুই কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকায় কুরবানীর পশুর হাট না বসানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকায় পশুর হাটের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।