ভার্চুয়াল আদালতে জামিন হয়েছে ৬০ হাজার আসামির

করোনাভাইরাসে গত ১২ মে থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশের অধস্তন ভার্চুয়াল আদালতে ১ লাখ ২০ হাজার ৯০৪টি জামিন দরখাস্ত নিষ্পত্তি হয়েছে। এসব আবেদনের প্রেক্ষিতে জামিন হয়েছে ৬০ হাজার ৪০৭জন অভিযুক্ত ব্যক্তির। এর মধ্যে ৬৯৮ জন শিশু রয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার সাইফুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ১১ মে থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত মোট ৪৫ কার্যদিবসে সারা দেশে অধস্তন আদালতে ভার্চুয়াল শুনানিতে মোট ১ লাখ ২০হাজার ৯০৪ টি জামিন দরখাস্ত নিষ্পত্তি এবং ৬০ হাজার ৪০৭ জন অভিযুক্ত ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর হয়েছে।

এসময় ভার্চুয়াল শুনানিতে জামিন পেয়েছে ৬৯৮ জন শিশু। এর মধ্যে ৬৮৫ জন শিশুকে তাদের অভিভাবকের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ৩ টি কেন্দ্রে অবস্থান করছে ৮৪০ জন শিশু। ১২ মে থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত কেন্দ্রে নতুন এসেছে ৪০৩ জন।

এছাড়া ১২ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত চার কার্য দিবসে সারা দেশের অধস্তন আদালতে ৫ হাজার ৩১৯ টি মামলায় আত্নসমর্পণ আবেদন নিস্পত্তি হয়েছে। এবং মোট ১ হাজার ৫৯০ জন অভিযুক্ত ব্যক্তির জামিন মঞ্জুর হয়েছে। ১ হাজার ১৭৪ জন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

গত ৯ মে ভার্চুয়াল কোর্টে শুনানির জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হয়। পরদিন ১০ মে উচ্চ আদালতের সব বিচারপতিকে নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে ফুলকোর্ট সভা করেন প্রধান বিচারপতি। ওইদিনই নিম্ন আদালতের ভার্চুয়াল কোর্টে শুধু জামিন শুনানি করতে নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এরপর থেকে নিম্ন আদালতে ভার্চুয়াল কোর্টে জামিন শুনানি শুরু হয়। ১১ মে প্রথমবারের মতো কুমিল্লার আদালতে এক আসামির জামিন হয়।


করোনাকালে ২৬ মার্চের পর দফায় দফায় সাধারণ ছুটিরও মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত ১৬ মে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ ছুটির মেয়াদ ৩০ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে সরকার ৩০ মে মাসের পর সাধারণ ছুটি আর না বাড়ালেও আদালত অঙ্গণে নিয়মিত কার্যক্রমের পরিবর্তে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ভার্চুয়াল বিচার কাজ অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেন সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।