শিক্ষা প্রকৌশলীকে মারধর করায় আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

চাঁদপুরের কচুয়ায় শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারকে মারধরের ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহজাহান শিশিরকে প্রধান আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) কচুয়া থানায় এ মামলাটি করেন হামলার শিকার ওই ইঞ্জিনিয়ার।

আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা এবং বিচার না হলে সারাদেশের শিক্ষা প্রকৌশলী বিভাগের প্রকৌশলীরা কর্মবিরতিতে যাবেন বলে জানিয়েছেন হামলার শিকার ইঞ্জিনিয়র নূর আলম।

আসামিরা হচ্ছেন- উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির, কচুয়ার কোয়া গ্রামের হোসেন, রসুলপুর গ্রামের জহির হোসেনসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জন।

মামলায় ইঞ্জিনিয়র নূর আলম উল্লেখ করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬তলা বিশিষ্ট কচুয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন দরপত্রের মাধ্যমে পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অনন্ত ট্রেডার্স (জেবি)। এ কাজের তত্ত্বাবধান করে আসছেন ঠিকাদারের লোক আশরাফুল আলম।

রোববার ইঞ্জিনিয়র নূর আলম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিপায়ন দাস শুভকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলটির দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের প্রস্তুতি পরিদর্শনে যান। দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান শিশির ১৫-২০ জনের একটি দল নিয়ে সেখানে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সামনেই ইঞ্জিনিয়র নূর আলমকে গালিগালাজ করে নাক-মুখে এলোপাতাড়ি ঘুষি এবং বাঁশ দিয়ে ডান পায়ের হাটুতে আঘাত করেন। চেয়ারম্যানের দেখা দেখি অন্যরাও নুরে আলমের পিঠে ও পায়ে মেরে জখম করে।

আহত নুরে আলম চিকিৎসা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে চাইলেও হামলাকারীদের মধ্যে দুইজন মোটরসাইকেল নিয়ে হাসপাতালের সামনে গিয়ে তাকে ধাওয়া করে। এ অবস্থায় প্রাণভয়ে সেখান থেকে সরে গিয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ইঞ্জিনিয়র নূর আলম।


হামলার শিকার ইঞ্জিনিয়র নূর আলম বলেন, দ্রুত আমার উপর হামলার যথাযথ ব্যবস্থা ও বিচার চাই। তা না হলে আমাদের সংগঠন ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন (আইডিইডি) সারা দেশে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নেবে।