সিলেটে অর্ধেকের বেশি হাসপাতাল-ক্লিনিকের লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ

দেশে অর্ধেকেরও বেশি বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স নেই। প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়ন বাধ্যতামূলক হলেও এসব হাসপাতাল-ক্লিনিক এই নিয়মের তোয়াক্কা করে না।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নানাভাবে হাত করে অনেক হাসপাতাল-ক্লিনিকের মালিক চিকিৎসাসেবার নামে অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বছরের পর বছর।

সম্প্রতি দেশ-বিদেশে আলোচিত প্রতারক সাহেদ করিমের করোনা নিয়ে জালিয়াতি ও তার লাইসেন্সবিহীন দু’টি হাসপাতালের খবর সামনে আসার পর এমন ভয়ঙ্কর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, সম্প্রতি রিজেন্ট হাসপাতালে করোনা কেলেঙ্কারিসহ লাইসেন্স নবায়ন না থাকার ঘটনায় পর অধিদফতর বেসরকারি হাসপাতালগুলোর লাইসেন্স নবায়ন করার বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে তারা বলছেন, প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়ন বাধ্যতামূলক হলেও সারা দেশেই হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো এসবের তোয়াক্কা করে না, নানাভাবে ‘ম্যানেজ’ করে ফেলে সবকিছু।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তালিকা অনুযায়ী, সিলেটসহ সারা দেশে মোট ১৭ হাজার ২৪৪টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক রয়েছে। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগে পাঁচ হাজার ৪৩৬টি, সিলেট বিভাগে ৮৩৯টি, চট্টগ্রাম বিভাগে তিন হাজার ৩৭৫টি, রাজশাহীতে দুই হাজার ৩৮০টি, খুলনায় দুই হাজার ১৫০টি, রংপুরে এক হাজার ২৩৬টি, বরিশালে ৯৫৭টি এবং ময়মনসিংহে ৮৭০।

এসবের মধ্যে অনলাইনে লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করেছে ১০ হাজার ৯৪০টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। লাইসেন্স রয়েছে মাত্র চার হাজার ৩৮৭টির। আর অধিদফতরের পরিদর্শনের অপেক্ষায় রয়েছে এক হাজার ৫২৫টি। বিভিন্ন শর্ত পূরণ না করতে পারায় ঝুলে রয়েছে চার হাজার ৫২৬টি।

অধিদফতর বলছে, দেশের অর্ধেকেরও বেশি বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ। আর লাইসেন্সই নেই শতকরা ১০ শতাংশের। লাইসেন্স ছাড়াই এসব হাসপাতাল ক্লিনিক বাণিজ্য করছে বছরের পর বছর। মূলত ২০১৮ সালের পরই দেশের অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স করা এবং নবায়নে শিথিলতা আসে।

তথ্যমতে- ২০১৮ সালে লাইসেন্স ও নবায়নের জন্য অনলাইনে আবেদনের পদ্ধতি চালু হয়। কিন্তু তাতে কোনও একটি শর্ত যদি পূরণ না হয় তাহলে রেজিস্ট্রেশন হয় না, নবায়নও হয় না। অনেকে ঠিকমতো শর্ত পূরণ করতে না পেরে আবেদনও করেন না।

তবে এজন্য জনবল সংকটও কিছুটা দায়ী বলে মন্তব্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদের। তারা বলছেন, হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে কেবল নোটিশ ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া ছাড়া আর কোনও পদক্ষেপ নিতে পারে না স্বাস্থ্য অধিদফতর।

শেয়ার করুণ
  •