লিবিয়ার যুদ্ধবাজ হাফতারের দূর্গ তারহুনা শহরে গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | সোহেল আহম্মেদ


গত শুক্রবার লিবিয়ার সেনাবাহিনী দ্বারা মুক্তিপ্রাপ্ত যুদ্ধবাজ খলিফা হাফতারের সর্বশেষ দুর্গ তরহুনা শহরে গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে।

লিবিয়া সরকারের বুরকান আল-গাদাব অপারেশনের প্রেস অফিস গণকবরের একটি চিত্র প্রকাশ করেছে। খবর আনাদোলু এজেন্সি’র।

দেশটিতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান লুৎফী তেভিক মিসরাটি বলেন, ‘এখনও অবধি দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ অঞ্চলটি মৃতদেহে ভরপুর। আমরা ধারণা করছি এ স্থানের আরেকটি কবরে ১০ থেকে ১২টি লাশ রয়েছে। পাঁচ বা ততোধিক পয়েন্টে আলাদা আলাদা কবর পাওয়া গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মরদেহ গুলোর ময়নাতদন্ত করবে এবং তাদের দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এদিকে গত শুক্রবার লিবিয়া ঘোষণা করেছে, হাফতার বাহিনী থেকে মুক্ত হওয়ার পরপরই তারা তারহুনা শহরের একটি হাসপাতালে মহিলা ও শিশু সহ ১০৬ টি লাশ পেয়েছে।

বুরকান আল-গাদাব অপারেশনের লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিহতদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আমিন আল-হাশেমী বলেছেন, বেশিরভাগ লাশের উপরে নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে প্রয়াত শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক চুক্তির আওতায় ২০১৫ সালে লিবিয়ার নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে লিবিয়ার সরকারের সাথে হাফতার বাহিনীর সহিংসতা শুরু হয়। এই সহিংসতায় এ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে।

গত মার্চ মাসে লিবিয়া সরকার রাজধানীতে আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য অপারেশন পিস স্টর্ম শুরু করার পর সম্প্রতি হাফতার বাহিনীর কবল থেকে আল-ওয়াটিয়া বিমানবন্দর এবং তারহুনা শহর সহ কৌশলগত অবস্থানগুলি পুনরায় অর্জন করেছে লিবিয়ার সেনাবাহিনী।

Previous post গত অর্থবছর থেকেও বহুগুণ কমেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ!
Next post মোংলা বন্দরে বিদেশী জাহাজে চীনা প্রধান প্রকৌশলীর মৃত্যু