বাংলাদেশের কিংবদন্তী সাইফুল আজমের ইন্তেকালে শোকাহত ফিলিস্তিনিরা

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | মারজান চৌধুরী


সাইফুল আজমের ইন্তেকালে শোকাহত ফিলিস্তিনিরা। রোববার সকালে ঢাকার মহাখালি ডিএসএইচও’র তার নিজ বাস ভবনে ইন্তেকাল করেন সাইফুল আজম। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘদিন তিনি নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।

পাবনা-৩ আসনের বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল আজম। সাইফুল আজমের নাম শুনে থরথর করে কাঁপত ইহুদিবাদি ইসরাইল ও ভারত। লিভিং ঈগল বলা হয় তাকে। ১৯৬৭ সালের ইরাক যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। যুদ্ধে একটি ইসরাইলি বিমান ভূপাতিত করেন এবং আরেকটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম হন।

ফিলিস্তিনি ইতিহাসবিদ ওসামা আল আশকার ফেসবুকে দেয়া এক শোকবার্তায় সাইফুল আজমকে শ্রেষ্ঠ বৈমানিক হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আমাদের ভাইয়েরা আল-আকসা মসজিদকে প্রতিরোধ ও রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের অংশীদার ছিল।

ফিলিস্তিনি অধ্যাপক নাজি শুকরি এক টুইট বার্তায় সাইফুল আজমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

তিনি বলেন, সাইফুল আজম ফিলিস্তিনকে ভালবাসতেন এবং জেরুজালেমের স্বার্থে লড়াই করেছিলেন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। আল্লাহ্‌ যেন তাঁকে জান্নাতবাসি করেন।

প্রখ্যাত ফিলিস্তিনি সাংবাদিক তামের আল মিশাল সাইফুল আজমকে ‘আকাশের ঈগল’ অভিহিত করে তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

সাইফুল আজমকে লিভিং ঈগল বলা হয়। ১৯৬৭ সালের ইরাক যুদ্ধে অংশ নেন তিনি। যুদ্ধে একটি ইসরাইলি বিমান ভূপাতিত করেন এবং আরেকটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম হন।

১৯৪১ সালে পাবনা জেলার খগড়বাড়িয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই সাইফুল আজম। উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পাশ করে ১৯৫৬ সালে উচ্চতর শিক্ষার্থে পশ্চিম পাকিস্তান যান। ১৯৬০ সালে জিডি পাইলট ব্রাঞ্চের একজন পাইলট হন তিনি। ১৯৭১ সালের পূর্বে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগ দেন।

পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৬ জুন তাকে ইরাকি বিমান বাহিনীতে বদলি করা হয়। বিমানঘাঁটি আক্রমণের সময় তিনি পশ্চিম ইরাকে ছিলেন।

সাইফুল আজম তার বর্ণাঢ্য জীবনে নিজেই কিংবদন্তির ইতিহাস রচনা করেছিলেন। পৃথিবীর ২২ জন ‘লিভিং ঈগলের’ মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। তাঁর দুরন্ত নির্ভুল নিশানা কাঁপিয়ে দিয়েছিল সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী বিমান বাহিনীকেও।

সাইফুল আজম ছিলেন পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র ফাইটার পাইলট যিনি চারটি দেশের বিমান বাহিনীর সৈন্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই চারটি দেশ হলো পাকিস্তান, জর্ডান, ইরাক ও বাংলাদেশ। দুটো ভিন্ন প্রতিপক্ষের বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমর জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে তার, এগুলো হলো ভারত ও ইসরাইল।

তার বিরলতম অর্জন হলো, ইতিহাসের একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে তিনটি ভিন্ন দেশ থেকে লড়াইয়ের স্বীকৃতি স্বরূপ সামরিক সম্মাননা প্রাপ্তি।