দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকা রক্ষা, মসজিদে নামাজ আদায় সম্ভবত বিএনপির সহ্য হচ্ছে না।

বুধবার দুপুরে রাজধানীতে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ দফতর থেকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মন্ত্রীর পারিবারিক সংস্থা এনএনকে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তার নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়া এবং আংশিক বোয়ালখালী উপজেলার সব মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ঈদ উপহার ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হওয়ার পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ মন্তব্য করেন।

‘লকডাউন শিথিল করে সরকার ভয়াবহ ভুল করেছে’- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এ বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আজকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ছোট দোকানদারা কিছু বিক্রি করে যে তাদের বাচ্চা-কাচ্চাকে খাওয়ানোর জন্য কিছুটা হলেও মুনাফা পাচ্ছে, জীবিকা নির্বাহ করার সুযোগ পাচ্ছে, মানুষ যে মসজিদে গিয়ে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ পড়ছে- এগুলো সম্ভবত তাদের সহ্য হচ্ছে না।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের শুধু জীবন নয়, জীবিকা রক্ষারও পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছেন, ইতিমধ্যেই এক-তৃতীয়াংশ জনগণ যার আওতায় এসেছে, পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ত্রাণ পেয়েছে ১ কোটিরও বেশি মানুষ। মনে রাখতে হবে, এদেশের কোটি কোটি খেটে খাওয়া মানুষ প্রাত্যহিক উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল। সেটি মাথায় রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগে কিছু দোকানপাট খুলে দেয়া, লকডাউন কিছুটা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে মানুষ যাতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে বারংবার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অথচ এগুলো বিএনপির সহ্য হচ্ছে না বলেই মঙ্গলবার ফখরুল সাহেব ও আগে বিএনপির অন্যান্য নেতারা সরকারের এই কার্যক্রমের সমালোচনা করেছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যেখানে ভারতে প্রতিদিন একশ’র বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করছে, সেখানেও বিভিন্ন রাজ্যে লকডাউন শিথিল করা হচ্ছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেখানে এখনো প্রতিদিন শতশত মানুষ মৃত্যুবরণ করছে, সেখানেও মানুষের জীবিকার কথা চিন্তা করে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে।

আমাদের দেশেও কিছুটা শিথিল করা হয়েছে, তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে দোকান বা মার্কেট বন্ধও করে দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী।

বিএনপিকে এ ধরণের সমালোচনা না করে একসঙ্গে জনগণকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতিতে আলেম-ওলামাদের যাতে অসুবিধা না হয়, সেটি মাথায় রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রায় সবগুলো কওমি মাদ্রাসায় সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা করেছেন, তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে আজ আমাদের পারিবারিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে আমার নির্বাচনী এলাকার সমস্ত মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের হাতে আমরা ইফতার ও ঈদ উপহারসামগ্রী তুলে দিচ্ছি।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম তালুকদার, পৌরসভার মেয়র মো. শাহজাহান সিকদার, ড. হাছান মাহমুদের পারিবারিক সংস্থা এনএনকে ফাউন্ডেশনের অন্যতম পরিচালক মো. খালেদ মাহমুদ, শিক্ষক আবদুর রউফ, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দীন তালুকদার, প্রচার সম্পাদক এমরুল করিম রাশেদ, মওলানা আইয়ুব নূরসহ উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন।