জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২১তম জন্মবার্ষিকী আজ

আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৫ মে) সাম্য, দ্রোহ আর প্রেমের কবি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাণ পুরুষ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২১তম জন্মবার্ষিকী।

বাংলা ১৩০৬ সনের এই দিনে তিনি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম ‘দুখু মিয়া’। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন।

কাজী নজরুল ইসলাম বাঙালি মনীষার এক মহত্তম বিকাশ। বিশেষত বাঙালি মুসলমানের আত্ম জাগরণে তার ভূমিকা তুলনারহিত। এক হাতে বাঁশের বাঁশরী, আরেক হাতে রণতূর্য নিয়ে ধূমকেতুর মতোই সাহিত্য জগতে আবির্ভাব ঘটেছিল নজরুলের। সাহিত্য ও সঙ্গীতের প্রায় সর্বক্ষেত্রে তার দৃপ্ত পদচারণা। তার কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলছে। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রাম তো বটেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস।

নজরুল তার বহুমাত্রিক প্রতিভার স্পর্শে বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীত জগতে যুক্ত করেছেন এক অনন্য মাত্রা। তার ক্ষুরধার লেখনীতে যেমন নির্যাতিত-নিপীড়িত, বঞ্চিত মানুষের ওপর অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচারের বিষয় উঠে এসেছে। তেমনি ব্রিটিশ রাজের শোষণের বিরুদ্ধেও গর্জে উঠেছিলেন তিনি।

তৎকালীন সেনাবাহিনীতে কিছুদিন কাজ করার পর তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। তখন তিনি কলকাতাতেই থাকতেন। এ সময় তিনি ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে অবতীর্ণ হন। প্রকাশ করেন বিদ্রোহী এবং ভাঙার গানের মতো কবিতা; ধূমকেতুর মতো সাময়িকী। ১৯২২ সালে সাপ্তাহিক ‘ধূমকেতু’ প্রকাশ করে বাংলা সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলাম দ্বিতীয় কবি যিনি কবিতা লেখার জন্য কারাবরণ করেন। কবিতার জন্য কারাবরণকারী প্রথম কবি হলেন ‘অনল প্রবাহ’ খ্যাত ইসমাইল হোসেন সিরাজী।

কিন্তু নজরুল যেমন কবিতায় আলোড়ন সৃষ্টি করে ব্রিটিশের মতো রাজশক্তিকে নাড়িয়ে তুলেছিলেন, এমন আর কেউ পারেননি। জেলে বন্দী হওয়ার পর তিনি লেখেন রাজবন্দীর জবানবন্দী। এই সব সাহিত্যকর্মে সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা ছিল সুস্পষ্ট। পশ্চাৎপদ মুসলিম সমাজ এবং অবহেলিত জনগণের সাথে তার বিশেষ সম্পর্ক ছিল। তার সাহিত্যকর্মে প্রাধান্য পেয়েছে ভালোবাসা, মুক্তি এবং বিদ্রোহ। বিংশ শতাব্দীর বাংলা মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ দুই বাংলাতেই তার কবিতা ও গান সমানভাবে সমাদৃত।

ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক লিখলেও তিনি মূলত কবি ও সঙ্গীত রচয়িতা হিসেবেই অধিক পরিচিত। বাংলা কাব্যে তিনি এক নতুন ধারার জন্ম দেন। এটি হলো ইসলামি সঙ্গীত তথা গজল, এর পাশাপাশি তিনি অনেক উৎকৃষ্ট শ্যামা সঙ্গীত ও হিন্দু ভক্তিগীতিও রচনা করেন। নজরুল প্রায় তিন হাজার গানের রচয়িতা এবং অধিকাংশে জনপ্রিয়।

মধ্যবয়সে কবি পিকথস ডিজিজ নামক রোগে আক্রান্ত হন। এর ফলে আমৃত্যু তাকে সাহিত্যকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়। বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে ১৯৭২ সালে তিনি সপরিবারে ঢাকা আসেন। এ সময় তাকে বাংলাদেশের জাতীয়তা প্রদান করা হয়। জাতীয় কবি নজরুল ইংরেজি ১৯৭৬ সালে অর্থাৎ বাংলা ১৩৮৩ সালের ১২ ভাদ্র ইন্তেকাল করেন।

জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উদযাপনের লক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছে।

সরকারি বেসরকারি চ্যানেলগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে। জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো জাতীয় কবির ওপর বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র পরিবেশন করছে।

এছাড়া রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি রয়েছে।

Previous post মাওলানা শাহ মুহাম্মদ তৈয়্যবের ইন্তেকালে আল্লামা বাবুনগরীর শোক প্রকাশ
Next post জিরি মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা শাহ মুহাম্মাদ তৈয়্যব’র দাফন সম্পন্ন