অবিলম্বে অনুমোদন না দিলে করোনা শনাক্ত শুরু করে দেবে গণস্বাস্থ্য: জাফরুল্লাহ চৌধুরী

মঙ্গলবার (২৬ মে) থেকে অভ্যন্তরীণ গবেষণা কাজের (ইন্টারনাল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল) অংশ হিসেবে নিজেদের উদ্ভাবিত কিট ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছিল গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র। তবে এর আগের দিন সোমবার (২৫ মে) চিঠি দিয়ে তা বন্ধ রাখার অনুরোধ জানায় ওষুধ প্রশাসন। এই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে করোনা শনাক্ত স্থগিত ঘোষণা দেয় গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র।

এবিষয়ে আজ বুধবার (২৭ মে) দুপুরে গণমাধ্যমকে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, অতি দ্রুত অনুমোদন ও ওষুধ প্রশাসন সাড়া না দিলে আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে স্থগিত থাকা করোনা শনাক্ত কার্যক্রম শুরু করবে গণস্বাস্থ্যকেন্দ্র।

তিনি বলেন, ‘আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম যে, মঙ্গলবার থেকে করোনা শনাক্ত কার্যক্রম শুরু করব। তখন ওষুধ প্রশাসন থেকে আমাদের অনুরোধ করেছিল যে, এটা যেন বন্ধ রাখি। ওষুধ প্রশাসন কেন এই অনুরোধ করেছিল, তা জানি না। আমরা আরও তিন-চার দিন অপেক্ষা করব। তারপর আমরা আরম্ভ করে দেব, যা ইচ্ছা করে, করুক।’

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘গত বছর যখন ডেঙ্গু হয়েছিল, ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট অনুমোদন দিতে তাদের (ওষুধ প্রশাসনের) একদিন সময় লেগেছিল। আর রেমডেসিভির অনুমোদন দিতে ৭ দিন লেগেছে। রেমডেসিভির ইনজেকশন। ভালোমতো না হলে মানুষের শরীরে ইনজেকশন দেয়া অনেক বেশি বিপজ্জনক। অথচ সেটার দ্রুত অনুমোদন হয়ে গেছে। অপরপক্ষে আমাদেরটা তিন মাস লাগিয়ে দিয়েছে। এখনও এর অনুমোদন হয় নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএসএমএমইউ (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ইতোমধ্যে আমাদের দেয়া ৩০০ কিটের পরীক্ষা করে ফেলেছে। তারা ইচ্ছা করলে দিতে পারে। এই ৩০০ কিটের ভিত্তিতে আমাদের অনুমোদন না দেয়াটা অনৈতিক কাজ। তারা (বিএসএমএমইউ) কবে নাগাদ রিপোর্ট দিতে পারে, সেটা আমরা কিছুই জানি না। বিএসএমএমইউকে ওষুধ প্রশাসন অনুরোধ করলে ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্টটা দাও, তাহলেই এটা হতো। তারপরও তারা কতটা অনৈতিক, অর্বাচীন কাজ করছে, সেটা প্রমাণের জন্যই আমরা অপেক্ষা করছি। তবে তিন-চার দিনের বেশি অপেক্ষা করব না।’

ইতোমধ্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ রোগের চিকিৎসায় মঙ্গলবার প্লাজমা গ্রহণ করেন তিনি।

Previous post সিলেটে করোনা উপসর্গ নিয়ে ইউপি সচিবের মৃত্যু
Next post সৌদি আরবে গোলাগুলিতে নিহত ৬