সিলেটে করোনা চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালের দুর্দশা

সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালকে করোনা আইসোলেশন সেন্টার ঘোষণা করে এখানে করোনার উপসর্গ থাকা ও আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

তবে হাসপাতালের পরিবেশ নিয়ে রয়েছে নানান অভিযোগ। সেই সাথে রয়েছে চিকিৎসা সরঞ্জামের অপার্যপ্ততা। বলা হচ্ছে, কোন সুস্থ মানুষ সেখানে গেলে অসুস্থ হয়ে পরতে পারে।

সিলেটে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর যে কয়েকজন রোগী সেখানে ভর্তি হয়েছিলেন তাদের অভিযোগ ছিল খাবার নিয়ে। রোগীদের জন্য নিম্ন মানের খাবার পরিবেশন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। রয়েছে পানির সংকটও।

এদিকে এই হাসপাতালের বাথরুম ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন রোগীরা। দরজা বন্ধ (লকড) হওয়ার কারণে বাথরুম ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

হাসপাতালে কর্মরত স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের আন্তরিকতা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন।

গত মঙ্গলবার এই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে করোনায় আক্রান্ত এক রোগী ভর্তি হন। বুধবার থেকে তার পাতলা পায়খানা হয়। বিছানায়ই তিনি পায়খানা করে ফেলায় পুরো ওয়ার্ডে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এরফলে অন্য রোগীরা ওয়ার্ডে থাকতে না পেরে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বারান্দায় আশ্রয় নেন।

এবিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানোর পরও ওই রোগীর মল পরিষ্কার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন রোগীরা।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. সুশান্ত মহাপাত্রের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বাথরুম দুদিন ধরে লকড (তালাবদ্ধ) হয়ে আছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কোনো সুইপার পাওয়া যাচ্ছে না। করোনা হাসপাতাল হওয়ায় এখানে কেউ কাজে আসতে চায় না।”

“করোনা আক্রান্ত এক রোগীকে পুলিশ এনে এখানে ভর্তি করেছে। রোগীর সাথে তার কোনো স্বজন নেই। তিনি একাধিকবার বিছানায় পায়খানা করেছেন। বারবার পরিষ্কার করার মতো যথেষ্ট পরিচ্ছন্নতা কর্মী আমাদের নেই।” যোগ করেন তিনি।