করোনাভাইরাস মানুষের তৈরি নয়, এটি প্রাকৃতিক: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের উৎস নিয়ে বিশ্বব্যাপী নানা কৌতুহল রয়েছে।

চীনের গবেষণাগার থেকে করোনাভাইরাসের উৎপত্তির গুঞ্জন এ ভাইরাস মহামারীর শুরু থেকেই বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন রয়েছে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, চীনের গবেষণাগার থেকেই করোনাভাইরাসের উৎপত্তি, তার প্রমাণ নাকি তার কাছে রয়েছে।

এর একদিন পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, নতুন করোনাভাইরাসের উৎস প্রাকৃতিক।

বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, প্রাণঘাতী ভাইরাসটি প্রাণী থেকে মানুষের দেহে প্রবেশ করেছে। গত বছরের শেষ দিকে চীনের উহান শহরের একটি বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে এটি ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু ট্রাম্পের দাবি করোনার উৎপত্তি হয়েছে উহানের একটি গবেষণাগার থেকে। যদিও চীন বারবার তা অস্বীকার করেছে।

বৃহস্পতিবার মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সও এক বিবৃতিতে জানায়, করোনা মানবসৃষ্ট কিংবা জিনগতভাবে পরিবর্তিত হওয়ার প্রমাণ পায়নি তারা। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনও একই কথা জানান। কিন্তু ওইদিনই ট্রাম্প জোর গলায় বলেন, উহানের একটি ভাইরোলোজি গবেষণাগার করোনাভাইরাসের উৎস। তিনি প্রমাণও দেখেছেন। যদিও বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি।

শুক্রবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের এ দাবি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডব্লিউএইচও’র জরুরিবিষয়ক প্রধান মাইকেল রায়ান বলেছেন, জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থা ‘বারবার শুনে এসেছে করোনাভাইরাসের উৎস খুঁজতে বহু বিজ্ঞানী কাজ করছেন।’

সংস্থাটির আগের অবস্থানই পরিষ্কার করলেন তিনি, ‘আমাদের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে ভাইরাসটির উৎস প্রাকৃতিক।’

মহামারীর উৎস সম্পর্কে জানতে চীনের তদন্তে অংশগ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কয়েক মাসে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে মেরে ফেলা ভাইরাসটির উৎপত্তি জানা খুবই প্রয়োজন বললেন রায়ান, ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো ভাইরাসটির প্রাকৃতিক উৎস কী, তা নিশ্চিত করা।’ ‘কীভাবে প্রাণী-মানুষের বাধা ভেঙে গেলো’ সেটা জানার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

তিনি আরো বলেছেন, ‘এই জানার লক্ষ্য হলো যেন আমরা প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারি এবং এমনটা যেন আবার অন্য কোথাও না ঘটে সেজন্য জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।’