সাগরে ভাসমান রোহিঙ্গাদের উদ্ধারে আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে বিপন্ন অবস্থায় ভাসমান কয়েকশ’ রোহিঙ্গাকে উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

শনিবার ইইউ’র ব্রাসেলস অফিসের বরাত দিয়ে ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেফ বোরেল ও কমিশনার জ্যানে লেনার্কিক বলেন, বর্তমানে কয়েকশ’ রোহিঙ্গা বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে ভাসছে। এদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। আন্দামান ও বঙ্গোপসাগরে তীরগুলো থেকে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে তাদের আগে নৌকা থেকে নামিয়ে একটি সমাধান খোঁজার জন্য এ অঞ্চলের দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছে ইইউ।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল সাগরে ভাসা ৪০০ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, অব্যাহতভাবে উদারতা ও মানবতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ। আমরা আশা করবো এ অঞ্চলের দেশগুলো এ দৃষ্টান্ত অনুরসণ করবে। নারী ও শিশুসহ বেশ কয়েকশ রোহিঙ্গা কয়েক সপ্তাহ ধরে সাগরে মানবেতরভাবে ভেসে বেড়াচ্ছে।

বিবৃতিতে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীকে জরুরিভাবে যুদ্ধবিরতি দিয়ে শান্তি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়।

‘এটি রোহিঙ্গাদের দুর্দশার মূল কারণগুলো সমাধান করতে সহায়তা করবে। ইইউ বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য একটি মূল মানবিক ও উন্নয়ন দাতা এবং এই অঞ্চলে আরও সহায়তা দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।’

ইইউ বলছে, আমরা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের উৎপত্তিস্থলে নিরাপদ, টেকসই, মর্যাদাপূর্ণ এবং স্বেচ্ছাসেবী প্রত্যাবর্তনের জন্য এবং তাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের জন্য পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পক্ষে সমর্থন জানাই।

বর্তমানে ২টি নৌকায় প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গা বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে ভাসমান রয়েছে। তারা মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়, কিন্তু মালয়েশিয়া সরকার তাদের নৌকা দুটি ভিড়তে দেয়নি। ফলে বেশ কিছুদিন ধরে নৌকা দুটি সাগরেই ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এদিকে এ অঞ্চলে আরও আরও দেশ থাকতে বাংলাদেশকেই কেন এককভাবে বারবার রোহিঙ্গাদের সহায়তায় এগিয়ে যেতে হবে, এমন প্রশ্ন তুলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশের কোনো দায়বদ্ধতা নেই।

তিনি বলেন, তাদের সাহায্যের জন্য অন্য দেশও এগিয়ে আসতে পারে। এই অঞ্চলে আরো দেশ আছে। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, ফিলিপিন্স, রোহিঙ্গাদের নেয়ার জন্য তাদের কাছে কেউ অনুরোধ করে না, শুধু বাংলাদেশের কাছে করে কেন? এছাড়া বর্তমানে ভাসমান এসব রোহিঙ্গা বাংলাদেশের জলসীমায় নেই। তারা এখন গভীর সমুদ্রে অবস্থান করছে।’

এর ২ সপ্তাহ আগে নৌকাযোগে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা ৪ শতাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ।

সাগরে ভাসতে থাকা বাদবাকিদের গ্রহণে বর্তমানে রাজি নয় বাংলাদেশ সরকার। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ভাসমান এসব রোহিঙ্গাকে গ্রহণের জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

Previous post করোনা আক্রান্ত এমপির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ
Next post করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পুলিশের আরও এক এসআই’র মৃত্যু