সরকারি অনুদান গ্রহণ কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য পরিপন্থী: মাওলানা শাহ মুহাম্মাদ তৈয়্যব

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | মাহবুবুুল মান্নান


চট্টগ্রাম জামিয়া আরাবিয়া জিরির মুহতামিম ও মহিউস সুন্নাহ শাহ আবরারুল হক রহ.এর বিশিষ্ট খলিফা মাওলানা শাহ মুহাম্মাদ তৈয়্যব সাহেব বলেছেন, সরকারিভাবে যেকোনো ধরনের অনুদানের সঙ্গে অনেক বিষয়ের সংশ্লিষ্টতা থাকে। সরকারি অনুদান না নেয়া কওমি মাদরাসার ঐতিহ্য। এটাকে কোনোভাবে গুরুত্বহীন বা দুর্বল করার সুযোগ নেই। বরং গণমানুষের সাহায্য-সহযোগিতা নির্ভরতার যে পদ্ধতি প্রচলিত আছে সেটাকেই বহাল রাখতে হবে যেকোনো মূল্যে।

শুক্রবার (১ মে) গনমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা শাহ তৈয়্যব বলেন, সরকারি সহযোগিতা কওমি মাদরাসায় অফিশিয়ালি আসা শুরু হলে, দুটি সমস্যা হতে পারে। প্রথম সমস্যা সরকারি অফিশিয়াল সিস্টেমের বিভিন্ন গেরাকলে পড়ে যাবে মাদরাসাগুলো। পর্যায়ক্রমে মাদরাসা সরকারি বিভিন্ন সিস্টেমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়বে। যে সমস্ত জায়গায় সরকার অর্থায়ন করে থাকে সেখানে নজরদারি ও হস্তক্ষেপের স্কোপ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তাই আমি মনে করছি এর মাধ্যমে কওমি মাদরাসার স্বকীয়তা নষ্ট হওয়ার একটি পথ উন্মুক্ত হতে পারে।

দ্বিতীয় সমস্যা হলো সরকার যখনই কোন অনুদান দিবে স্বাভাবিকভাবে এটা গোপন রাখবে না বরং যতটুকু দেয়া হবে এর চেয়ে বেশি প্রচার করবে। এই প্রচারণায় সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। মানুষ ভাবতে শুরু করতে পারে, সরকারিভাবে তো মাদরাসা গুলোকে অনুদান দেওয়া হচ্ছে‌। কাজেই সাধারণ মানুষের মাদরাসা গুলোর সঙ্গে যে সংশ্লিষ্টতা এবং উদারহস্তে সহযোগিতার ধারা ব্যাহত হতে পারে।

তিনি বলেন, এমনকি মানুষের মাঝে এ ধারণাও তৈরি হতে পারে, যেমনটি সরকারি মাদরাসার বিষয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা আছে। ওগুলো তো সরকার চালায়, কাজেই আমাদের সহযোগিতা দরকার কী? কিন্তু বর্তমানে সাধারণ মানুষ মনে করে এই মাদরাসাগুলো আমাদের এবং আমাদেরই পরিচালনা করা উচিত। তারা কওমি মাদরাসাকে তাদের আত্মার প্রতিষ্ঠান মনে করে। সেই অনুভূতি থেকে মাদরাসাগুলোর সহযোগিতায় সাধারণ মানুষ সবসময় সম্পৃক্ত থাকে। আমার বিশ্বাস, বর্তমানে অচল অবস্থায় মাদরাসাগুলো যদি জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারে, তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে সকল আয়োজন সম্পন্ন হবে, ইনশাআল্লাহ। সাধারণ মানুষের মন কওমি মাদরাসাগুলোর প্রতি আরো বেশি ধাবিত হবে। ঐতিহ্যগত পদ্ধতিতেই মাদরাসাগুলোর সমস্যা সমাধান হতে পারে।

জিরি মাদরাসার মুহতামিম বলেন, সরকারি সহযোগিতা কওমি মাদরাসাগুলোতে আসতেই পারে। সেটা জাতীয়ভাবে বা অফিশিয়ালি কোন যোগাযোগের মাধ্যমে নয়। এলাকার জনপ্রতিনিধিরা তাদের জনগণ নিয়ে ভাবে। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মাঝে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দিয়ে থাকে, এলাকার এমপি মন্ত্রীরা সরকারিভাবে নানা ধরনের বরাদ্ধ এনে দিয়ে থাকে। সেইভাবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কিছু সহযোগিতা করতে পারেন। অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মত তাদের মাঝেও কিছু বরাদ্দ আসতে পারে। এটি তেমন ক্ষতিকর মনে হচ্ছে না। কিন্তু অফিশিয়ালি যদি কোন অনুদান আসে তাহলে কওমি মাদ্রাসার চলমান ধারা ও ঐতিহ্য পদ্ধতিটা ব্যাহত হতে পারে।