ইহুদিবাদী ইসরাইলের পশ্চিম তীর দখলের অবৈধ সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি মন্ত্রীপরিষদ

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | নাহিয়ান হাসান


ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের পূর্ণ অধিকার ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে সৌদি সরকারের নিরঙ্কুশ সমর্থনের বিষয়টি মঙ্গলবার(১৬জুন) নিশ্চিত করেছে সৌদি আরবের মন্ত্রিপরিষদ। এছাড়াও ফিলিস্তিনের আরো কিছু অংশ পশ্চিম তীরের অংশীকরণের বিষয়ে ইহুদিবাদী ইসরাইলের অবৈধ পরিকল্পনাকেও প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটির মন্ত্রীপরিষদ। এসময় তারা এটিকে আন্তর্জাতিক আইন,জাতিসংঘের প্রস্তাবিত নীতিমালা ও জাতিসংঘের সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও অভিহিত করেন।

মন্ত্রীপরিষদের ভার্চুয়াল অধিবেশনটি হারামাইন শরীফাইনের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই অধিবেশনে ইরান-সমর্থিত হুথি-মিলিশিয়া বাহিনী কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে সৌদি আরবের সাধারণ জনগণ ও তাদের নাগরিক সুযোগ-সুবিধাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে লাগাতার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ব্যাপারে নতুন করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। শুধু তাই নয়,সৌদি মন্ত্রীপরিষদ ইরানের এই ধরনের প্রচেষ্টাকে সন্ত্রাসবাদী কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের এই হীন কর্মকাণ্ডের তিরস্কার করেছে।

ভার্চুয়াল অধিবেশনটি শুরুর সময় মন্ত্রিপরিষদ করোনভাইরাস মহামারী সম্পর্কিত স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়নের ব্যাপারে পর্যালোচনা করে। পাশাপাশি সৌদির শাসনাধীন রাজ্যগুলোতে এই মহামারীতে সংক্রমিতদের বিস্তৃতি,তাদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা সরবরাহে দেশব্যাপী যে কার্যক্রম চলছে তারও জরিপ করা হয়েছে উক্ত অধিবেশনে।

তাছাড়া বিদেশ থেকে নিজ দেশে ফিরে আসতে সৌদি নাগরিকদের সহায়তা প্রদান ও তদারকির জন্য নিয়োজিত কর্তৃপক্ষের তদারকি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ব্যাপারেও এসময় মন্ত্রীপরিষদকে অবহিত করা হয়। তাদের কার্যক্রম বিষয়ক রিপোর্টে বলা হয়, সৌদি মিশনের দ্বারা সরবরাহ করা পরিষেবাগুলোর মাধ্যমে ২৫০টি ফ্লাইটে ভিন্ন ভিন্ন ৫১টি জায়গা থেকে ৪৭০০০ এরও বেশি নাগরিক নিরাপদে সৌদিতে ফিরে এসেছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সিকে (এসপিএ) এক বিবৃতিতে গণমাধ্যমের ভারপ্রাপ্তমন্ত্রী মাজিদ আল-কাসাবি বলেছেন যে, ওআইসির কর্তৃক অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতি মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত অবস্থান গ্রহণের ব্যাপারে সৌদি আরবের আহ্বানকে মন্ত্রিসভা সমর্থন করেছে।

সৌদি মন্ত্রীপরিষদ,ওআইসির উক্ত বৈঠকের পর ওআইসির নির্বাহী কমিটি কর্তৃক জারি করা সিদ্ধান্তের ব্যাপারে পর্যালোচনা করে।উক্ত পর্যালোচনায় পূর্ব জেরুসালেম(আল কুদস)কে ফিলিস্তিনের রাজধানী বানিয়ে ১৯৬৭সালের সীমান্তের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উপর জোর দেওয়া হয়।

ফ্রান্স আয়োজিত ‘সাহেল জোটের জি ফাইভ ভার্চুয়াল সম্মেলনে’গৃহীত পদক্ষেপের প্রতি সৌদি মন্ত্রীপরিষদ সমর্থন জানিয়েছিল এবং বলেছিল যে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকির কারণ স্বরূপ যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে সৌদি আরব সব দেশকে সমর্থন করতে পিছপা হবে না বরং তা দমনে যেকোনো ধরনের উদ্যোগ গ্রহণে তারা বদ্ধপরিকর।

সৌদি মন্ত্রিসভা আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া ও ইরাকে সংঘটিত সন্ত্রাসী বোমা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। উল্লেখ্য, উক্ত বোমা হামলায় কয়েক ডজন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছিল। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের যেকোনো ধরন ও তা প্রকাশের ক্ষেত্রে সৌদি সরকার যে তা সমর্থন করে না সেটা নিশ্চিত করেছে সৌদির মন্ত্রীপরিষদ। এছাড়াও হামলার শিকার নিহত ব্যক্তিদের পরিবার-পরিজন ও উক্ত দেশগুলির জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহত ব্যক্তিরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন।