ফিলিস্তিনের পর সিরিয়ার ভূখণ্ড গোলানে বসতি স্থাপনের ঘোষণা দিলো ইসরাইল

সিরিয়ার ভূখণ্ড গোলান মালভূমিতে বসতি স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রাম্প মালভূমি’।

গত বছর শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই গোলান মালভূমিকে ইসরাইলের বলে দাবি করেছে। ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশে রেখেই ওই স্বীকৃতিতে স্বাক্ষর করে ট্রাম্প।

রোববার (১৪ জুন) ইসরায়েলের আবাসনবিষয়কমন্ত্রী জিপি হোটোভ্যালি জানান, ইসরাইলের বসতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘রামাত ট্রাম্প’ এ বসতি স্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

হিব্রু ভাষায় রামাত মানে মালভূমি এবং রামাত ট্রাম্প অর্থ ট্রাম্প মালভূমি। গোলান মালভূমিকে
ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল ‘ট্রাম্প মালভূমি’ নাম দিয়ে বসতি স্থাপন শুরু করতে যাচ্ছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবাসন প্রকল্পে তিনশ’ পরিবারের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

যে কারণে গোলান মালভূমি এতটা গুরুত্বপূর্ণ

দক্ষিণ পশ্চিম সিরিয়ার একটি পাথুরে মালভূমি হচ্ছে এই গোলান। এর আয়তন এক হাজার ৮০০ বর্গকিলোমিটার।

ইহুদীবাদী ইসরাইলের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত সিরিয়ার এই অঞ্চলটির প্রায় এক হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা। ১৯৬৭ সালে আরবদের সঙ্গে ছয় দিনের যুদ্ধে যা দখল করে নেয় ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল।

সামরিক এবং কৌশলগত কারণে গোলান মালভূমির গুরুত্ব অপরিসীম। এই গুরুত্বের বাইরেও ওই এলাকা মিঠাপানির প্রধান উৎস। ইসরাইলে ব্যবহৃত মিঠাপানির তিন ভাগের প্রায় এক ভাগ আনে এই গোলান থেকে।

জায়গাটি চাষাবাদের জন্যও বিশেষ উপযোগী। এখানে ফল ও আঙুরের চাষ হয়, পশুপালন হয়।

গোলান মালভুমি থেকে মাত্র ৪০ মাইল দূরে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক শহর এবং দক্ষিণ সিরিয়ার একটি বড় অংশ এখান থেকে স্পষ্ট দেখা যায়। সিরিয়ান সেনাবাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য এটা একটি আদর্শ স্থান। তা ছাড়া পার্বত্য এলাকা হওয়ার কারণে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর কোনো সম্ভাব্য আক্রমণের পথে এটি একটি প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে।

১৯৬৭ সালে ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল জায়গাটি দখল করার পর এখানকার সিরিয়ান আরব বাসিন্দারা অধিকাংশই পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

১৯৭৩ সালের যুদ্ধে সিরিয়ান মুসলমানরা এটি পুনর্দখল করার চেষ্টা করেও পারে নি।

১৯৭৪ সালে ইসরাইল সিরিয়া এক যুদ্ধবিরতি হয়, আর ১৯৮১ সালে ইসরায়েল গোলানকে নিজের অংশ হিসেবে দাবি করে একতরফা ভাবে।

দখলের পর থেকেই গোলান মালভূমিতে ইহুদীবাদী ইসরাইল বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। মালভূমিটিতে বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার লোকের বসবাস। এদের মধ্যে ২০ হাজার হলো অবৈধ দখলদার ইহুদী, যারা ইসরাইলের গড়া ৩০টি বসতি এলাকায় বাস করছে। ইহীদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিনিয়ত আরব বা সিরিয়ানদের বসতবাড়ি দখল করে ইহুদিদের জন্য বসতি স্থাপন করছে।

ইসরাইল দখলের পরে এলাকার লোকজনকে উৎপাদিত ফসলাদি সিরিয়াতে বিক্রি করতে বাধা দেয়। আস্তে আস্তে সাধারণ জনগণকে তাদের ইচ্ছামতো ফল-ফলাদি চাষ করার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে অবৈধ এই দেশটি। তারপরে আরব বা সিরিয়ানদের ওপর আরোপ করে অতিরিক্ত ট্যাক্স। তাদের কাছে সেচের পানি, সার ইত্যাদি বিক্রি করা হয় চড়া মূল্যে যা ইহুদীদের কাছে বিক্রি করা হয় প্রায় অর্ধেক দামে।

Previous post করোনার আক্রমণে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মৃত্যুকে ছাড়িয়ে গেল আমেরিকা
Next post খুলনার ১৪ এলাকা রেড জোন; একদিনে সর্বোচ্চ ৪৯ জন করোনায় আক্রান্ত