চীন-পাকিস্তান-নেপালের চাপে পিষ্ট মোদি এবার সর্বদলীয় বৈঠকে তোপের মুখে

ভারতে চিনা আগ্রাসন নিয়ে সরকার বিরোধীদের কেন অন্ধকারে রেখেছিল, শুক্রবার সর্বদল বৈঠকে সেই প্রশ্ন সরাসরি তুললেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী।

এদিন সর্বদলীয় বৈঠকে তাঁর প্রাথমিক মন্তব্যে সনিয়া বলেন, দেশ এই নিশ্চয়তা চায় যে লাদাখে স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে দিতে হবে। চিন যে ভূখণ্ডের দখল নিয়েছে তা ফেরাতে এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় আগের পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। কিন্তু তার পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দিকে তাকিয়ে উপর্যুপরি প্রশ্ন তোলেন সনিয়া— “সরকার গোড়া থেকে বিরোধীদের এ ব্যাপারে কিছু জানতেই দেয়নি। এমনকি এখনও অনেক কিছু বিষয়ে বিরোধীরা অন্ধকারে রয়েছেন। কবে চিনা সেনা নিয়ন্ত্রণ রেখার এপারে ঢুকে পড়েছিল। তারা কি ৫ মে থেকেই ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছিল? সে কথা কি সরকার জানত। সরকার কি নিয়মিত ভাবে উপগ্রহ চিত্র থেকে দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি জানতে পারে? আমাদের গোয়েন্দা বাহিনী কি জানতে পারেনি যে সীমান্তের ওপারে ষড়যন্ত্র চলছে! সেনা গোয়েন্দারা কি সরকারকে সতর্ক করেনি। তা হলে কি কোনও গোয়েন্দা ব্যর্থতা রয়েছে বলে সরকার মনে করে?”

লাদাখে চিনা আগ্রাসনের ঘটনা গোটা দেশকে আন্দোলিত করে তুলেছে। ২০ জন ভারতীয় জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনা, অফিসার ও জওয়ান মিলিয়ে দশ জনকে আটকে রেখে দেওয়া—এ সবই ভারতীয় ভাবাবেগে বড় ধাক্কা দিয়েছে। চিনা সামগ্রী বর্জনের ডাক দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের এই ভাবাবেগকে সন্তুষ্ট করার দায় গোটা রাজনৈতিক শ্রেণির। সেই সঙ্গে সময়ের দাবি হল, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দল সমস্বরে কথা বলবে। বস্তুত এই কারণে সর্বদল বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী।

কিন্তু সেই সর্বসম্মতি গড়ে তোলার আগে সরকারকেও বিরোধীদের থেকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে সেই আশঙ্কা ছিলই।

সনিয়া এদিন স্পষ্টতই জানিয়েছেন, এই সংকটের মুহূর্তে কংগ্রেস সরকারের পাশেই থাকবে। কিন্তু সরকারকেও সমস্ত রকম তথ্য বিরোধীদের জানাতে হবে। তাঁর কথায়, লাদাখে চিনা সেনা ঢুকে পড়ার পর পরই সর্বদল বৈঠক ডাকা উচিত ছিল।

বৈঠকে তাঁর মতামত স্পষ্ট করে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেছেন, চিনে কোনও গণতন্ত্র নেই। একনায়কতন্ত্র চলছে। ওরা যা ইচ্ছা করতে পারে। কিন্তু আমাদের এখানে তা নয়। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তা সুনিশ্চিত থাকলেই ভারত জিতবে, চিন হারবে। জানা গিয়েছে বৈঠকে মমতা এও বলেন, “চিন্তায় ঐক্য চাই, কাজে ঐক্য চাই। কথায় ঐক্য চাই। আমরা এ ব্যাপারে মজবুত ভাবে সরকারের পাশে রয়েছি।”

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জনতা দল ইউনাইটেড প্রধান তথা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। তিনি বলেন, “চিনের বিরুদ্ধে গোটা দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আমাদের এই সময় একসঙ্গে থাকতে হবে। এই সময় আমাদের মধ্যে যেন কোনও বিভেদ না হয় যার লাভ অন্য দেশ নিতে পারে। ভারতের তরফে চিনের দৃষ্টিভঙ্গি সবাই জানে। ভারত সবাইকে সম্মান করে। কিন্তু চিন আমাদের সঙ্গে কী করেছে। চিনা দ্রব্যে আমাদের বাজার ছেয়ে গিয়েছে। দেশীয় সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চিনের দ্রব্য আমাদের পরিবেশ দূষণ করছে। এর বিরোধিতা আমাদের করতেই হবে।”

এদিনের বৈঠকে উপস্থিত বাকি দলের প্রধানরাও একই ভাষায় কথা বলেছেন। চিনের বিরোধিতায় একসঙ্গে থাকার বার্তা দিয়েছেন সকলে।

মূলত দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্নে সরকারের পাশেই রইলেন বিরোধীরা।

Previous post চীনের বাজারে আরও ৫১৬১ পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পেল বাংলাদেশ
Next post করোনায় আক্রান্ত স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ