এবার চীনের টার্গেট দেপসাং উপত্যকা, সৈন্য তৈরি করছে বাঙ্কার, হতভম্ব ভারত

গলওয়ান উপত্যকা, প্যাংগং লেকের পর এবার দেপসাং ভ্যালিও চীন কব্জা করার চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ভারত।

ভারতের দাবি, দেপসাংয়ে ইতিমধ্যেই সেনার সংখ্যা বাড়াতে শুরু করেছে চীন। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা সংলগ্ন এলাকায় সেনার সঙ্গে ট্যাঙ্ক, কামানও মোতায়েন করতে শুরু করেছে। ওই এলাকায় চীন দ্রুত সেনা মোতায়েনের জন্য রাস্তাও তৈরি করছে।

ভারতের সেনা সূত্রের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে কলকাতার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

এ বিষয়ে লে. জে. (অব.) রামেশ্বর রায় বলেছেন, ‘এতদিন চীনের পক্ষে দেপসাং ভ্যালিতে ঘাঁটি গেড়ে বসে থাকা মুশকিল ছিল। কারণ পাহাড়ের ওপর দৌলত বেগ ওল্ডি বিমানঘাঁটি থেকে ভারত ওই এলাকায় কর্তৃত্ব করে। কিন্তু এখন চীনের সেনা দেপসাং ভ্যালির দক্ষিণে, গলওয়ান ভ্যালিতে পাহাড়ের মাথায় চলে এসেছে। ওদিকে প্যাংগং লেকের মধ্যে ঢুকে আসা ফিঙ্গার ফোর নামক পাহাড়ের মাথাতেও চীনের সেনা ঘাঁটি গেড়ে বসেছে। এরপর চিন দেপসাংয়েও সামরিক শক্তি বাড়াতে শুরু করবে। বাস্তবের জমিতে এর অর্থ হলো, দেপসাং ভ্যালি থেকে একেবারে নীচে ডেমচক পর্যন্ত কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা চীনের রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দারবুক থেকে শিয়ক হয়ে দৌলত বেগ ওল্ডি বিমানঘাঁটি পর্যন্ত যে রাস্তা তৈরি হচ্ছে, তা আমাদের এলাকায় হলেও তা চীনের মাথা ব্যথার কারণ। চীন পাহাড়ের ওপর থেকে এই রাস্তায় গতিবিধির ওপর নজরদারি করতে চায় বলেই গলওয়ান ঘাঁটির ১৪ নম্বর পেট্রলিং পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার তোয়াক্কা না করে পাহাড়ের ওপরে চলে এসেছে। সেখান থেকে চীন দৌলত বেগ ওল্ডির দিকে যাওয়া রাস্তায় নজরদারি করতে পারবে। ফলে সামরিক দিক থেকে আমাদের দৌলত বেগ ওল্ডি দুর্বল হয়ে পড়ল।’

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেপসাং ভ্যালিতে চীনের সেনা ২০১৩-র এপ্রিলে প্রায় তিন সপ্তাহ ঘাঁটি গেড়ে বসেছিল। আগস্ট মাসেই দেপসাংয়ের ওপরে কর্তৃত্ব করতে বিশ্বের সর্বোচ্চ বিমানঘাঁটি দৌলত বেগ ওল্ডি চালু করে ভারত। এবার গলওয়ান বা প্যাংগং থেকে চীনের সেনাকে সরানো সহজ হবে না বলেই মনে করছেন সাবকে সেনা কর্মকর্তারা।

রামেশ্বর বলেন, ‘অনেকে বলছে, চীনের সেনা শীতে সরে যাবে। সরে যাওয়ার মনোবাঞ্ছা থাকলে কংক্রিটের বাঙ্কার তৈরি করত না। আমাদের সেনা সদস্যরা শীতের সময় ওই ১৬ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকতে পারলে, ওরা পারবে না কেন?’

অবসরপ্রাপ্ত এ লেফটেন্যান্ট জেনারেল বলেন, ‘আমি যদি মনে করি, আমাদের পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার উপায় নেই, তা হলে তাদের অন্তত ওখানেই আটকাতে হবে। গলওয়ান, প্যাংগং বা দেপসাং, কোথাও এগোতে দেয়া চলবে না। চীন কথা বোঝে না। সমানে সমানে শক্তি হলে তবেই গুরুত্ব দেয়। সেটাই করতে হবে।’

Previous post বিএনপির ত্রাণকাজে বাধার অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা: ওবায়দুল কাদের
Next post করোনাকালীন কর্মতৎপরতায় ইশা ছাত্র আন্দোলন