করোনাকালে সেনা অভ্যুত্থানের গুঞ্জনকে পাত্তাই দিলো না এরদোগানের সরকার

ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম | আরিফ মুসতাহসান


এরদোগানের তুরস্কে গুঞ্জন উঠেছে নতুন করে আবার সেনা অভ্যুত্থানের। বলা হচ্ছে, তুরস্ক যখন বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে; বিদ্রোহীরা ঠিক সেই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চাচ্ছে।

তবে সেনা অভ্যুত্থানের এই গুঞ্জনকে কোনো ভাবেই পাত্তা দিচ্ছেনা এরদোগানের নেতৃত্বাধীন তুরস্কের একে পার্টির সরকার। করোনার প্রাদুর্ভাবে দেশটি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে সোচ্চার।

সম্প্রতি এই সেনা অভ্যুত্থানের গুঞ্জন শুরু হয় মাসখানেক আগে আমেরিকা ভিত্তিক রেন্ড কর্পোরেশনের একটি রিপোর্টকে কেন্দ্র করে। সেখানে রেন্ড কর্পোরেশন উল্লেখ্য করে যে, তুরস্কে আবারও সেনা শাসন ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।

কারণ হিসেবে উল্লেখ্য করা হয়, সিরিয়ার সাথে লাগাতার যুদ্ধ, পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্কের অবনতি এবং অর্থনৈতিক অবস্থার দুর্বলতা।

আমেরিকার মালিকানাধীন রেন্ড কর্পোরেশনের এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর জনমনে তা আরো বিস্তৃতি লাভ করেছে। করোনার কারণে সবকিছু স্থবির হলেও অভ্যন্তরে তা নিয়ে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অভ্যন্তরীণভাবে এ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলতে থাকে।

কেউ কেউ মনে করছেন, তুরস্ক সরকার যখন করোনার প্রাদুর্ভাব থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজছে তখন একটি বিরোধী পক্ষ এই নাজুক ও সঙ্কটময় অবস্থার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা চালাতে পারে। তবে অনেকেরই এই ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস রয়েছে যে, যেকোনো অপচেষ্টা শক্ত হাতে দমনের ক্ষমতা আছে এরদোগান সরকারের।

তবে তুর্কী মিডিয়া বিশেষ করে আনাদোলু এজেন্সি, ডেইলি সাবাহ ও হেবের তুর্ক এই গুঞ্জনকে সম্পূর্ণরূপে উড়িয়ে দিয়ে তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, তুরস্কে সাম্প্রতিককালে সেনা অভ্যুত্থানের বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই।

তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থান নতুন কিছু নয়। পশ্চিমাদের সমর্থনে গত ৫ দশকে ৪ বার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে তুরস্কের সেনাবাহিনী। তবে গত ২০১৬ সালের ১৫ জুন আমেরিকা সমর্থিত গুলেনের সেনা অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ হয়। সেসময় অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসে বিদ্রোহ ঠেকিয়ে দিয়ে ‘রজব তাইয়েব এরদোগানের’ প্রতি ভালোবাসা ও আস্থার এক দুঃসাহসিক নজির স্থাপন করেছিল তুরস্কের দেশপ্রেমিক আপামর জনসাধারণ। তুর্কী প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের প্রতি তুর্কী জনগণের ভালোবাসা বিশ্ববাসী অবলোকন করে। তুর্কী মিডিয়ায় প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়, সেসময় অভ্যুত্থানের খবর শুনে কুরআন তিলাওয়াত, নামাজ ও সেজদায় লুটে পড়েন এরদোগান।

বিশ্বব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে লকডাউন, কারফিউ সহ নানা ধরণের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তুর্কী সরকার। তুরস্কে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১৫৪,৫০০। মৃত্যু হয়েছে ৪২৭৬ জনের। তবে করোনা থেকে মুক্ত হতে তুরস্ক বেশ সফল। তুরস্কে এ পর্যন্ত করোনাক্রান্ত সুস্থ হয়েছে ১১৬,১১১ জন।

করোনার প্রাদুর্ভাব থেকে রক্ষা পেতে আর্ত মানবতার সেবায় বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশকে মেডিকেল ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তুরস্ক। এ পর্যন্ত ৮০ টির বেশি রাষ্ট্রকে মেডিকেল সহায়তা পাঠিয়েছে তুরস্ক সরকার।

Previous post ইনসাফ সত্যকে ছড়িয়ে দিবে যুগ থেকে যুগান্তরে
Next post মিডিয়ার দাওয়াতি কার্যক্রমকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছেনা