ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী’র রোগমুক্তি ও দীর্ঘ হায়াতের জন্য আল্লামা কাসেমীর দোয়া

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাষ্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর দ্রুত আরোগ্যলাভ ও দীর্ঘ হায়াত কামনা করে বিশেষ দোয়া-মুনাজাত করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ’র মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

আজ (২৮ মে) বৃহস্পতিবার আছরের নামাযের পর বারিধারাস্থ জমিয়ত মহাসচিবের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ দোয়া-মুনাজাতে অন্যান্যদের মধ্যে আরো শরীক ছিলেন দলের যুগ্মমহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, অর্থসম্পাদক মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী, জমিয়ত নেতা মুফতি ইকবাল হোসাইন কাসেমী, মাওলানা আমজাদ হোসাইন হেলালী, মাওলানা আব্দুল্লাহ মাসউদ, মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা হাবীবুল্লাহ প্রমুখ।

দোয়াপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জমিয়ত মহাসচিব বলেন, একাত্তরের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর মুক্তিযাদ্ধা এবং দেশের গরীব মানুষের স্বাস্থ্য অধিকার আদায় সংগ্রামের নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁর করোনা আক্রান্তের খবরে দেশবাসী উদ্বিগ্ন।

ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী দ্রুত সম্পূর্ণ করোনামুক্ত হয়ে মানুষের জন্য কাজ করা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করে আল্লামা কাসেমী করোনাক্রান্ত সকল মানুষের রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

আল্লামা কাসেমী বলেন, করোনা মহামারী বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ার শুরু থেকেই ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী মানুষের প্রতি গভীর ভালবাসা এবং একজন চিকিৎসকের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে আসছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা গত মার্চের মাধ্যভাগেই করোনা পরীক্ষায় অল্প ব্যয়ের এক কিট আবিষ্কার করে দেশ-বিদেশে সাড়া ফেলে দেয়। তিনি ও তার প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মকর্তারা সরকারী নীতিনির্ধারকদেরকে আবিষ্কৃত এই কিট ব্যবহারের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য বার বার চেষ্টার প্রায় আড়াই মাস অতিক্রান্ত হতে চললেও এই কিট ব্যবহারের অনুমোদন পাননি। এই কিট ব্যবহারের কার্যকারিতা পরীক্ষায় সরকারী অনাগ্রহ ও অবহেলায় শুধু জাফর উল্লাহ চৌধুরী এবং তার প্রতিষ্ঠানই যে হতাশ ও ব্যথিত হয়েছেন তা নয়, বরং দেশে আরো যারা বিভিন্ন উদ্ভাবনী গবেষণায় যুক্ত আছেন তারাও এতে হতাশ হবেন এবং এই কিট ব্যবহারে উপকৃত হওয়ার বিষয়ে আশাবাদি হয়ে ওঠা দেশবাসীও এতে মর্মাহত হয়েছেন।

জমিয়ত মহাসচিব বলেন, এই গুণী মানুষটি দেশ ও জাতির প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ আরো অনেক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। যে কারণে তিনি দেশেবাসীর অন্তরের এক অনন্য উচ্চতায় জায়গা করে নিয়েছেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি করোনা আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও আগে থেকে আরো নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভূগছেন।

জমিয়ত মহাসচিব উপস্থিত জমিয়ত নেতৃবৃন্দ ও অন্যান্য মুসল্লীদেরকে নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর দ্রুত আরোগ্য লাভ, সুস্থতা ও দীর্ঘ হায়াতের জন্য দোয়া-মুনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় তিনি অন্যান্য যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাদেরও আশু রোগমুক্তি এবং দীর্ঘ হায়াতের জন্য দোয়া করেন।

জমিয়ত মহাসচিব বলেন, করোনা রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে নানা রকম অনিয়ম ও কর্তব্যে গাফলতি শুরু থেকেই দেখা যাচ্ছে, যা এখনো চলছে। আমরা উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি, দেশের বিদ্যমান করোনা সঙ্কটকালীন চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সকল অনিয়ম ও গাফলতি দ্রুত সমাধানে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে। পাশাপাশি দেশ ও দেশের মানুষের জন্য নিবেদিত বীর ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর যথাযথ উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্তরিকতাপূর্ণ কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। এই কঠিন দু:সময়ে রাষ্ট্রের তরফ থেকে পূর্ণ মনোযোগ ও সহযোগিতা পাওয়ার তিনি উপযুক্ত হকদার।